© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দেড় বছর ধরে হাসিনা দিল্লিতে কেন, প্রশ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেকের

শেয়ার করুন:
দেড় বছর ধরে হাসিনা দিল্লিতে কেন, প্রশ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেকের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:১৯ এএম | ১১ এপ্রিল, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে হাসিনাকে নিয়ে বিতর্কের পারদ চড়ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারবারই কেন্দ্র সরকারকে বিভিন্ন ইস্যুতে বিদ্ধ করছেন। শুক্রবার বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। অভিষেকের মূল প্রশ্নটি ছিল অত্যন্ত সোজাসাপ্টা— গত দেড় বছর ধরে কেন হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় দিয়ে রাখা হয়েছে এবং এর পেছনে কোন বড় শিল্পপতির স্বার্থ কাজ করছে?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি কেবল দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের খাতিরে নয়, বরং এর পেছনে গভীর কোনো অর্থনৈতিক সমীকরণ থাকতে পারে। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে, ভারতের কোনো নির্দিষ্ট শিল্পগোষ্ঠী বা আদানি-আম্বানির মতো বড় কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করতেই কি মোদী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে? তার দাবি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের এ হস্তক্ষেপ বা হাসিনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার পেছনে আসলে কর্পোরেট স্বার্থ লুকিয়ে আছে।

তৃণমূল নেতার এই আক্রমণের পটভূমি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে চলে আসেন। ভারত সরকার মানবিক কারণে তাকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার কথা জানালেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশের অভ্যন্তরেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে মোদী সরকারের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষের করের টাকায় বিদেশি নেতাদের আতিথেয়তা দেওয়ার চেয়ে দেশের বেকারত্ব বা মূল্যবৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি ছিল।

তিনি আরও অভিযোগ করেন , বিজেপি সরকার আসলে জনস্বার্থের চেয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি বন্ধুদের ব্যবসায়িক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বেশি আগ্রহী। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত বা অন্যান্য বড় প্রকল্পে ভারতের যে শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিনিয়োগ রয়েছে, হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে বা ভারত থেকে কলকাঠি না নাড়লে সেই বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে— এমন একটি ধারণা থেকেই হাসিনাকে দিল্লিতে রাখা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অভিষেকের এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, বরং এটি ভারতের বৈদেশিক নীতি ও দেশের বড় পুঁজিপতিদের মধ্যকার যোগসূত্র নিয়ে এক বড়সড় বিতর্ক উসকে দিয়েছে।


ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন