আমরণ অনশনের ৭০ ঘণ্টা, দাবি আদায়ে রাজু ভাস্কর্যে অনড় শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত
০২:৪৩ পিএম | ১১ এপ্রিল, ২০২৬
জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের রায় রক্ষাসহ তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের অনশন ৭০ ঘণ্টা অতিক্রম করলেও এখনো সরকারপক্ষ বা বিরোধী দল থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস মেলেনি। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অনশনকারীদের অনশনের ৭০ ঘণ্টা পার হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ক্লান্ত শরীরে শুয়ে আছেন অনশনরত তিন শিক্ষার্থী। তাদের পাশে অবস্থানকারীরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন।
অনশনকারীদের মধ্যে দুজনের হাতে ক্যানোলা লাগানো রয়েছে। অপর একজনের রক্তচাপ বেশি থাকায় তাকে স্যালাইন দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ সময় তাদের সঙ্গে সংহতি জানাতে রাজনৈতিক নেতা, কর্মী এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষজনকে সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
অনশনে অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থী হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ।
দীর্ঘ সময় অনশন চললেও দাবি পূরণের বিষয়ে কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন অনশনরত শিক্ষার্থীরা।
অনশনকারী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম আক্ষেপ ভরা কণ্ঠে বলেন, মনে হচ্ছে যেন ডাস্টবিনে পড়ে আছি। ব্যথায় মাথা ফেটে যাচ্ছে। গত দুদিনে প্রেসার অনেক বেশি ছিল। স্যালাইনও দেওয়া যায়নি। আশ্বাস তো এমনিতেই দেওয়া যায়, কিন্তু দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে উঠব না।
অনশনরত শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. মুহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. মো. তানভির আলী বলেন, রক্তচাপ আপাতত স্বাভাবিক আছে, তবে স্বাভাবিকের নিম্নসীমার দিকে। একজনের রক্তচাপ বেশি থাকায় তাকে স্যালাইন দেওয়া যায়নি।
এদিকে গত কয়েক দিনে অনশনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে রাজু ভাস্কর্যে আসেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের কামাল হোসেন এবং শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাজু। এছাড়া জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অনশনকারীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
এসকে/টিএ