ক্ষমতা ছাড়ার আগে সবাইকে গণক্ষমা করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
০৪:০৮ পিএম | ১১ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার আগে ব্যাপকভাবে ক্ষমা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে নিজের প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য আইনি জবাবদিহিতা থেকে আগাম সুরক্ষা দিতে তিনি এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প একাধিকবার তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বলেছেন, তিনি তাদের ক্ষমা করবেন। এমনকি এক বৈঠকে তিনি নাকি মন্তব্য করেন, দায়িত্ব ছাড়ার আগে ওভাল অফিসের কাছাকাছি যারা কাজ করেছেন, সবাইকে ক্ষমা দেওয়া হতে পারে।
আরেক আলোচনায় তিনি প্রশাসনের শেষ সময়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণক্ষমা ঘোষণা করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবনার কথা বলেন।
তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, এই মন্তব্যগুলো মূলত রসিকতা হিসেবে করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমার ক্ষমতা নিরঙ্কুশ হলেও এসব বক্তব্যকে সিরিয়াসভাবে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে ক্ষমা ও দণ্ড মওকুফ করার অধিকার রাখেন। এই ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি সহযোগীদের আগাম আইনি সুরক্ষা দিতে পারেন, যদিও তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক রয়েছে।
২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের ফলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে আইনি দায়মুক্তি পান। তবে এই সুরক্ষা তাঁর সহযোগীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, ফলে তাদের রক্ষায় ক্ষমা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
এর আগে ট্রাম্প তাঁর মেয়াদকালে বন্ধু, ঘনিষ্ঠ সহযোগী, নির্বাচনী অনুদানদাতা এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের পর ক্যাপিটল দাঙ্গায় জড়িত সমর্থকদের জন্য ক্ষমা দিয়েছেন। গত ৪৪৫ দিনে তিনি ১৬০০ এর বেশি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য ক্ষমা বা দণ্ড মওকুফ করেছেন।
অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও তাঁর মেয়াদের শেষদিকে পরিবারের সদস্য জেমস বাইডেন, সারা বাইডেন, ফ্র্যাঙ্ক বাইডেন, ভ্যালেরি বাইডেন ওয়েন্স, জন ওয়েন্সসহ কয়েকজনকে আগাম ক্ষমা দেন। পাশাপাশি ড. অ্যান্থনি ফাউচি, জেনারেল মার্ক মিলি এবং ক্যাপিটল দাঙ্গা তদন্ত কমিটির সদস্যদেরও ক্ষমার আওতায় আনেন।
ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদেও সহকর্মীদের ক্ষমা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এমনকি অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে নির্দেশনা মানলে কর্মকর্তাদের ক্ষমা দেওয়ার কথাও বলেছিলেন, যদিও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল দাঙ্গার পরও গণক্ষমার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল বলে জানা যায়, তবে শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি। পরে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনার কথাও জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্পের প্রথম দিকের পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল ক্যাপিটল দাঙ্গায় জড়িত প্রায় ১৫০০ ব্যক্তিকে ক্ষমা দেওয়া।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
এমআর/টিকে