দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিলে সংসদে মারামারি শুরু হয়ে যাবে: পানিসম্পদমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২১ পিএম | ১১ এপ্রিল, ২০২৬
সরকারি দল এবং বিরোধী দল যদি কোনো কারণে অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিই, তাহলে সংসদে মারামারি শুরু হয়ে যাবে। এ জন্য মাঠ পর্যায় থেকে খুব সজাগ থাকতে হবে। প্রতিটি বাক্য, কথা ও কাজে স্বচ্ছ থাকতে হবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ইছেরদাড়ি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিলাম, সবাই এক এবং ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকায় অবতীর্ণ ছিলাম। আজ সংসদ চলছে, সংসদে বিরোধী দল তাদের কথা বলছে, সরকারি দল তার উত্তর দিচ্ছে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
এ্যানি বলেন, সারা দেশে খাল খনন শুরু হয়েছে, টেন্ডারও হয়েছে। এমনকি কাজের ধারাবাহিকতায় দখল হয়ে যাওয়া খালের জায়গা উদ্ধার করবে সরকার।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর থেকে যত সরকারই এসেছে সবার প্রশ্ন ও চাহিদা ছিল খাল খনন নিয়ে। খনন না হওয়ার কারণে পলি জমে ভরাট হয়েছে, অনেক জায়গা দখল করে মাছ চাষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি গড়ে উঠেছে। এমনকি চুয়াডাঙ্গায় সরকারি স্থাপনাও গড়ে উঠেছে।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, খালের জায়গা জনগণের। এই খালের জায়গা নিতে হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া কাগজে-কলমে কেউ নিতে পারে না। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে সেসবও হয়েছে। শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিএনপি সরকারের প্রথম কেবিনেট সভায় সারা দেশের কৃষকদের ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
বিএনপি সরকার শুধু খাল খনন নয়, এর পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড, সবার জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমরা মেগা প্রজেক্ট করে শুধু শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখব আর গ্রামের মানুষ উন্নয়ন পাবে না, সে নীতিতে বিশ্বাসী না। যারা এই নীতিতে বিশ্বাসী তারা হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে এবং শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে বিএনপি। রন্ধ্রে রন্ধ্রে যেন দুর্নীতি না থাকতে পারে সেখানে আমরা পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছি।
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল, পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পশ্চিমাঞ্চল বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ, জিকে সেচের প্রকল্প পরিচালক জাহেদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীন আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশী, মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও খাল খননের ঠিকাদার হেমন্ত কুমার সিংহ রায়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তার ও স্বাগত বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়নের বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ।
এসএস/টিকে