© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী মানুষ: কনকচাঁপা

শেয়ার করুন:
এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী মানুষ: কনকচাঁপা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:০৪ এএম | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের মুখে কুকুরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা।

আজ (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “কুমির কুকুর হায়েনা বাঘ সিংহ কেউ না, এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী মানুষ!”- যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তিনি স্ট্যাটাসের সঙ্গে এ সংশ্লিষ্ট ছবিও পোস্ট করেন।

এর আগে ঘটনাটি ঘিরে অনলাইনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত দর্শনার্থীদের কেউ কেউ ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকলেও অসহায় প্রাণীটিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেননি। এতে মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারকা থেকে সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে মাজারের দক্ষিণ পাশের প্রধান ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও মাজার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি অসুস্থ কুকুর শিশুসহ কয়েকজনকে কামড় দেয়। পরে স্থানীয়রা লাঠি ছুড়ে কুকুরটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করলে সেটি দৌড়ে মূল ঘাটের দিকে যায়।

সেখানে মাজারের নিরাপত্তা প্রহরী ফোরকানকে আঁচড় দিলে তিনি পা ঝাড়া দেন। এতে কুকুরটি দিঘির পানিতে পড়ে যায়। মুহূর্তেই একটি কুমির সেটিকে ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।

ঘটনাটি শুধু একটি প্রাণীর মৃত্যুই নয়, বরং সমাজের মানবিক মূল্যবোধ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে-এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এসে দলীয় নেত্রীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। আজ (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

সকাল থেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভিড় ছিল দলীয় কার্যালয়ে। এর মধ্যেই কনকচাঁপা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে গেলে উপস্থিত ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নারী নেত্রীদের একাংশ তার প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থেকেও হঠাৎ করে মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়া সুবিধাবাদিতার শামিল।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নির্বাহী সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা বিএনপির কে? তিনি কি দল করেছে? যারা আন্দোলনে ছিল, ১৭ বছর আমরা দলের জন্য খেটেছি-তাদের মূল্যায়ন কোথায়?’



তিনি আরও বলেন, বগুড়ার রাজপথে, ঢাকার রাজপথে ছিলাম। ১৭ বার জেলে গেছি। নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা খেয়েছি। কনকচাঁপা এতদিন কোথায় ছিলেন? আমাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন? আমরা সুবিধাবাদীদের দেখতে চাই না।

রনি প্রশ্ন তোলেন, কনকচাঁপা কয়টা মামলা খেয়েছেন? কয়টা আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন? যারা রাজপথে লড়াই করেছেন, আমরা তাদেরই মনোনয়ন চাই।

এসময় উপস্থিত আরও কয়েকজন নেত্রীও একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, দলে দীর্ঘদিন ধরে ত্যাগ স্বীকার করা নেত্রীদের উপেক্ষা করে হঠাৎ করে আগত ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হলে তা দলীয় কাঠামো ও কর্মীদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তবে এসব প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শেষ পর্যন্ত কনকচাঁপা তার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী।’

তবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এসে দলীয় নেত্রীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ার বিষয়ে তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন