শীর্ষে থেকেও কেন সমাজের চোখে ‘খলনায়ক’ প্রসেনজিতের বাবা বিশ্বজিৎ?
ছবি: সংগৃহীত
০১:১৪ পিএম | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
ওপার বাংলার কিংবদন্তি ভারতীয় অভিনেতা ও পরিচালক বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। টালিউড সহ বলিউডেও নিজের প্রতিভার ছাপ রাখেন এই তারকা। তবে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তার ব্যাক্তিগত জীবন ছিল চর্চার কেন্দ্রে। প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় বিয়ে করে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
তিনি প্রথম রত্মা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই সংসারে তার দুই সন্তান বাংলা চলচ্চিত্রের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জী এবং অভিনেত্রী পল্লবী চ্যাটার্জী।
প্রসেনজিৎ এবং পল্লবীর ছোট থাকা অবস্থাই তাদের ফেলে বিশ্বজিৎ মুম্বাই নগরীতে দ্বিতীয় ঘর বাঁধেন নাট্যকার ইরা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। উচ্চশিক্ষিতা দ্বিতীয় স্ত্রীর সামনে রত্না যেন ছিলেন একেবারে ঘরোয়া। প্রথম সংসারে বিশ্বজিৎ আর কোনোদিন ফেরেনি। দুই সন্তানকে নিয়ে রত্না যেন অথৈ সমুদ্রে পড়ে যান। সেসময় শাড়ির ব্যবসা করে ছেলে-মেয়ে মানুষ করেন তিনি।
বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় ইন্ড্রাস্টির শীর্ষ নায়ক হওয়া সত্ত্বেও, টালিউডে নিজেদের যোগ্যতায় জায়গা করে নেন প্রসেনজিৎ ও পল্লবী চট্টোপাধ্যায়। প্রসেনজিতের টালিউডে আসার পিছনে মায়ের অবদানই বেশি। তবে রত্না চট্টোপাধ্যায় ২০০২ সালে ছেলে-মেয়েকে একা করে দিয়ে অকাল প্রয়াত হন।

ক্যারিয়ারে উত্তমকুমারের জুনিয়র হয়েও বিশ্বজিৎ অনেক আগেই ‘নায়ক’ হিসেবে মুম্বাইতে প্রতিষ্ঠা পান। মালা সিনহা, ওয়াহিদা রেহমান, মুমতাজ, রেখার মতো নায়িকার সঙ্গে কাজ করেন তিনি। কিন্তু এত সফল হওয়া সত্ত্বেও সমাজের চোখে ‘খলনায়ক’ হয়েই ছিলেন তিনি।
কলকাতা সহজে মেনে নেয়নি বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে। এক সাক্ষাৎকারে এই বিষন্নতার কথা জানান বিশ্বজিৎ কন্যা পল্লবী চট্টোপাধ্যায়।
পল্লবী বলেন, ‘বাবাকে নিয়ে কোনো অভিমান নেই। কোনো রাগ নেই ইরা আন্টিকে নিয়ে। বরং তাকে শ্রদ্ধা জানাই ৮৫ বছরের বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে আগের মতোই ভালবাসেন। ছোট বোন সম্ভাবীকে নিয়ে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা মনে কোনো গোপন হিংসেও নেই। ওরা আমার বাবার ভালবাসা। ওদের হেয় করলে যে বাবাকে অসম্মান করা হবে।’
এছাড়াও তার স্মৃতিতে ফুটে উঠে বাবা-মা’র হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘মায়ের হাতের বিউলির ডাল, আলু পোস্ত, ঝাল ঝাল ডিমের কষা, পাঁঠার মাংস বাবার জন্মদিনের প্রিয় খাবার। জন্মদিন এলেই বাবার এই খাবারগুলো চাই।’
পুরোনো দিনের কথা মনে করে পল্লবী আরও জানান বাবার দ্বিতীয় বিয়ের পর ১৪ ডিসেম্বর এলেই ভীষণ শূণ্যতা অনুভব করতেন তারা। তিনি বলেন, ‘মুম্বাইয়ে যত দিন বাবার সংসার হয়নি সেখানে গিয়ে আমরা তার জন্মদিন উদযাপন করতাম। কিন্তু হঠাৎ সেটা বন্ধ হয়ে গেলো।’
বাবাকে কাছে না পাওয়ার আক্ষেপ জানিয়ে বলেন, ‘মনখারাপ করে শেষে বাবাকে পোস্ট কার্ডে ফুল এঁকে পাঠাতে শুরু করলাম। কত কার্ড পোস্ট করেছি ভুল ঠিকানায়। কিন্তু কার্ড জুড়ে লাল গোলাপটা ঠিক আঁকা থাকত।’
দীর্ঘ সময় বিশ্বজিতের সঙ্গে মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল দুই সন্তান প্রসেনজিৎ-পল্লবীর। পরে বাবা-ছেলের অভিমান মিটিয়েছিলেন প্রসেনজিতের স্ত্রী, অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়।
কেএন/এসএন