© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আশা ভোসলের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করলেন বলিউড তারকারা

শেয়ার করুন:
আশা ভোসলের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করলেন বলিউড তারকারা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৫৭ পিএম | ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ভারতীয় সংগীত জগতের আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। চিরতরে স্তব্ধ হয়ে গেল সেই চঞ্চল, মায়াবী আর চিরযৌবনা কণ্ঠস্বর। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোসলের প্রয়াণের সাথে সাথেই ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্লে-ব্যাক সংগীতের এক স্বর্ণযুগের অবসান হলো। আশার প্রয়াণে আজ বিষণ্ণতার চাদরে ঢাকা পড়েছে বলিউড থেকে টালিউড। যে কণ্ঠ সাত দশকের বেশি সময় ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে প্রেমের স্বপ্ন দেখিয়েছে, বিরহে সান্ত্বনা দিয়েছে আর উদযাপনে মেতে উঠতে শিখিয়েছে, সেই কণ্ঠের জাদুকরী ছোঁয়া থেকে আজ বঞ্চিত হলো সুরপিয়াসীরা।

বি-টাউন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের ড্রয়িংরুম, সর্বত্রই আজ হাহাকার। সালমান খান থেকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া প্রত্যেকের চোখেই আজ জল। আর তাদের স্মৃতিচারণায় উঠে আসছে তার সাথে কাটানো অমলিন কিছু মুহূর্ত। আশা ভোঁসলের প্রয়াণে নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ইনস্টাগ্রামে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া শোক প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। তার কথায়, ‘মনে হচ্ছে যেন শৈশবের একটা টুকরোকে হারিয়ে ফেললাম।‘ বিদেশে থাকলেও নিজের দেশের এই সুর-সূর্যের অস্তাচলে তিনি মর্মাহত। তার কাছে আশাজির গান মানেই ছিল জীবনের স্পন্দন।

অন্যদিকে, সালমান খান তার প্রিয় ‘আশা দিদি’র প্রয়াণে ভেঙে পড়েছেন। সালমান জানিয়েছেন, আশাজি তার হৃদয়ে এক অপূরণীয় স্থান দখল করে ছিলেন। তার চলে যাওয়া কেবল সংগীত জগতের নয়, গোটা বিনোদন বিশ্বের জন্য এক বিশাল ক্ষতি। সালমানের মতে, আশাজির মতো কণ্ঠ আর কখনও ফিরে আসবে না।



এছাড়া পরিচালক রামগোপাল ভার্মা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সিনেমা ‘রঙ্গিলা’র কথা স্মরণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘রঙ্গিলা রে’ গানটি যখন রেকর্ড করা হয়েছিল, তখন সেটি গোটা বলিউডকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। আশাজির সেই অনন্য গায়কী এবং এনার্জি আজও মানুষের মনে টাটকা। সেই কালজয়ী সৃষ্টির কারিগর আজ ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছেন, এটা ভাবতেই বাকরুদ্ধ পরিচালক।

এদিকে শোকের এই আবহে বলিউড অভিনেতা রিতেশ দেশমুখ এক দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার প্রজেক্ট ‘রাজা শিবাজি’র গান ‘ছত্রপতি’ মুক্তির কথা ছিল আজই। কিন্তু কিংবদন্তি শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুর-জাদুকরী আশা ভোসলে। ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্ম গ্রহণ করেন আশা ভোসলে। মাত্র ১০ বছর বয়সে গাছের তলায় দাঁড়িয়ে ট্রেনের আওয়াজের মধ্যে প্রথম গান রেকর্ড করেছিলেন তিনি। সেই শুরু, তারপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০টিরও বেশি ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তুলেছিলেন তিনি। ‘দম মারো দম’ থেকে ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, কিংবা ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ কিশোর কুমার, মান্না দে বা মহম্মত রফিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গান গেয়েছেন তিনি।

ভারত সরকার তাকে ‘দাদাসাহেব ফালকে’ এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত করেছিল। সুরের আকাশ আজ ম্লান, কিন্তু তার রেখে যাওয়া কয়েক হাজার গান অমর হয়ে থাকবে প্রতিটি সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে।

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন