ইরানে জাহাজ চলাচলে অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের, বাড়ছে আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি
ছবি: সংগৃহীত
১২:০৬ এএম | ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপের উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে- আইনগত, সামরিক এবং অর্থনৈতিক সব দিক থেকেই।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ইরানের বন্দর ঘিরে মার্কিন নৌবাহিনী অবস্থান নেবে না। যেমন বান্দার আব্বাস বা জাস্ক বন্দরের আশেপাশে অবস্থান নেওয়া হলে তাৎক্ষণিক ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র বা দ্রুতগতির আত্মঘাতী নৌযানের হামলার ঝুঁকি তৈরি হবে।
এর পরিবর্তে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক কমান্ড ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) স্যাটেলাইট ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে নজরদারি চালাবে। ইরানের বন্দর থেকে কোন জাহাজ বের হচ্ছে এবং সেগুলোর মালিকানা কার- এসব শনাক্ত করা হবে। এমনকি জাহাজের ট্র্যাকিং সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ থাকলেও, সেগুলো গালফ অব ওমানে প্রবেশের পর মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষে সেগুলোকে চিহ্নিত ও আটকে দেওয়া তুলনামূলক সহজ।
তবে ইরান এই পদক্ষেপকে ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরান জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর বন্দরেও হামলা চালাতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ ভাঙতে এলে ইরানের ‘অ্যাটাক শিপ’ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
এ পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা। বিশেষ করে চীন ও রাশিয়া কী অবস্থান নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদি কোনো চীনা মালিকানাধীন জাহাজ আটকানো হয়, তাহলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, চীন যদি তাদের জাহাজকে সশস্ত্র নৌ-সুরক্ষা দিতে শুরু করে; বিশেষ করে জিবুতিতে থাকা তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে- তাহলে পরিস্থিতি সরাসরি বড় শক্তিগুলোর মুখোমুখি অবস্থানে রূপ নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই অবরোধ কৌশল শুধু ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি নয়, বরং পুরো অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি
এসকে/এসএন