© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

একীভূত হওয়া ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের মালিকানায় ফেরার সুযোগ 'আত্মঘাতী': টিআইবি

শেয়ার করুন:
একীভূত হওয়া ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের মালিকানায় ফেরার সুযোগ 'আত্মঘাতী': টিআইবি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:০০ এএম | ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’- এ একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকের পুরনো শেয়ারধারীদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ রাখাকে ‘আত্মঘাতী’ বলে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি মনে করে, এই আইনের মাধ্যমে চিহ্নিত লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংকিং খাতকে আবারও দুর্নীতি ও লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত করবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে টিআইবি এই উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, এই আইনটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করার পরিবর্তে দায়মুক্তি ও বিচারহীনতার পূর্ববর্তী কর্তৃত্ববাদী চর্চাকেই বজায় রেখেছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫’-এ বিধান ছিল যে, বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ব্যক্তিরা অর্থ ফেরত দিলেও মালিকানায় ফিরতে পারবেন না।

কিন্তু বর্তমান আইনের ১৮ (ক) ধারা সংযোজনের মাধ্যমে সরকার সেই কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যারা এই খাতের লুটপাটের অগ্রপথিক, তারা কোন জাদুবলে এমন শুদ্ধতা অর্জন করলেন যে পুনরায় শেয়ার ও সম্পদ করায়ত্ত করার সুযোগ পাচ্ছেন? সরকার নির্ধারিত অর্থের মাত্র ৭.৫% জমা দিয়ে বাকি ৯২.৫% অর্থ ১০% সুদে দুই বছরে শোধ করার শর্ত মূলত লুটেরাদের বড় পুরস্কার।’

টিআইবি মনে করে, কর্তৃত্ববাদের পতনের অর্থ এই নয় যে ব্যাংক খাতে ক্ষমতার অপব্যবহার শেষ হয়েছে। ড. ইফতেখারুজ্জামানের মতে, এটি ‘উইনার টেইকস অল’ ফর্মুলায় নীতিদখলের পালাবদল মাত্র।

তিনি একে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা হিসেবেও উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘স্বার্থের দ্বন্দ্বে দুষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে এই শর্ত পালনের নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। বরং তারা নতুন করে ঋণ আদায় করে দেউলিয়াপনার নতুন পথ উন্মোচন করবে কি না, তা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে।’

সরকারকে সতর্ক করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংসদে পাস হওয়া এই আইন ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এই সিদ্ধান্তটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীতন্ত্রের স্বার্থরক্ষায় নেওয়া হয়েছে কি না, তা সরকারকে পুনরায় ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবি স্পষ্ট করে বলেছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে মালিকানা ফিরিয়ে দিলে ব্যাংকিং খাতে কোনো গুণগত পরিবর্তন আসবে না।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন