© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এ আই ড্রোন প্রযুক্তিতে চীন-রাশিয়ার কাছে হারছে যুক্তরাষ্ট্র!

শেয়ার করুন:
এ আই ড্রোন প্রযুক্তিতে চীন-রাশিয়ার কাছে হারছে যুক্তরাষ্ট্র!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:১০ পিএম | ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
ওয়াশিংটন-বেইজিংয়ের মধ্যকার প্রযুক্তিগত স্নায়ুযুদ্ধ এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ড্রোন ও চালকবিহীন যুদ্ধবিমান তৈরির প্রতিযোগিতায় রাশিয়া এবং চীনের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, মস্কো এবং বেইজিং এমন সব উন্নত ড্রোন তৈরি করছে যা মানুষের কোনো প্রকার সহায়তা ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে নির্ভুলভাবে হামলা চালাতে সক্ষম।

গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ের এক সামরিক প্যারেডে চীনের স্বয়ংক্রিয় ড্রোন প্রদর্শনী পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। সেখানে এমন সব প্রযুক্তি দেখা গেছে যা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সক্ষমতার চেয়ে এগিয়ে। বিশেষ করে চীনের ‘জিউটিয়ান’ বা হাই স্কাই নামক বিশাল ড্রোনটি নজর কেড়েছে সামরিক বিশেষজ্ঞদের। এটি মূলত একটি মাদারশিপ হিসেবে কাজ করে, যা আকাশ থেকে একসাথে ১০০টি ছোট আকারের কামিকাজে ড্রোন অবমুক্ত করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের শক্তিশালী উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সামরিক বাহিনীর নিবিড় সমন্বয় তাদের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাডভান্সড ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনে রাশিয়া বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রকে তারা এসব এআই চালিত ড্রোনের পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করছে। রাশিয়ার ল্যানসেট ড্রোনের স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্যভেদী ক্ষমতা ইতিমধ্যে রণক্ষেত্রে নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে।

বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র এই খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও পুরনো ধাঁচের ক্রয় প্রক্রিয়ার কারণে পিছিয়ে পড়ছে। মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পেন্টাগন দীর্ঘকাল ধরে বড় আকারের বিমান বা ট্যাংকের মতো ব্যয়বহুল সরঞ্জামের ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় ছোট ও সাশ্রয়ী ড্রোনের বাজারে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। চীনের উৎপাদন ক্ষমতার সাথে পাল্লা দেওয়া এখন ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমআর/টিএ 

মন্তব্য করুন