মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর উদ্যোগে ইসরায়েল-লেবানন ‘ঐতিহাসিক’ বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত
১২:৪৫ এএম | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-এর উদ্যোগে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে এক বিরল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এই আলোচনাকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ার ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। খবর রয়টার্সের।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯৮৩ সালের পর এই প্রথম সরাসরি আলোচনায় বসেছে দুই দেশ, যারা ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। তবে আলোচনার শুরুতেই উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্টভাবে ভিন্ন দেখা গেছে। ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে লেবাননের মাটিতে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের দাবি তুলেছে।অন্যদিকে লেবানন মূলত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।
এই বৈঠক এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে বৃহত্তর শান্তি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে- যা আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বৈঠকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লাইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ অংশ নেন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, যা এই আলোচনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
রুবিও বলেন, এটি একটি প্রক্রিয়া, একদিনের ঘটনা নয়। সময় লাগবে, তবে আমরা বিশ্বাস করি এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করা সম্ভব।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বৈঠক শুরুর সময় আশা প্রকাশ করেন, এটি লেবাননের জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে সহায়ক হবে। তবে লেবাননের প্রতিনিধিরা মূলত যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার সীমিত ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার স্পষ্ট করে বলেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া কোনো শান্তি চুক্তি বা সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। তিনি এটিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও লেবাননের সার্বভৌমত্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে হামলা চালানোর পর ইসরায়েল পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে লেবাননে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিরসনে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথ হিসেবে দেখা হলেও, উভয় পক্ষের অবস্থানগত পার্থক্যের কারণে দ্রুত কোনো সমাধান আসার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
এমআই/টিএ