© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সব ট্রেনে বসছে স্টারলিংক ইন্টারনেট, বাস-ফেরিতেও চালুর পরিকল্পনা

শেয়ার করুন:
সব ট্রেনে বসছে স্টারলিংক ইন্টারনেট, বাস-ফেরিতেও চালুর পরিকল্পনা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:১২ পিএম | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
চলন্ত ট্রেনে ইন্টারনেট সংযোগের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে স্যাটেলাইটভিত্তিক উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল)। পরীক্ষামূলক সফলতার পর এখন দেশের সব আন্তঃনগর ট্রেনে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাস ও ফেরিতেও এই সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ মার্চ প্রথমবারের মতো চলন্ত ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা চালু করা হয়। প্রাথমিকভাবে পর্যটক এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেসে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা দেওয়া হয়। প্রতিটি বগিতে কিউআর কোড সংযুক্ত থাকায় যাত্রীরা সহজেই স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ইন্টারনেটে যুক্ত হতে পারছেন। কোনো জটিল সেটআপ ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।

পরীক্ষামূলক এই সময়ে যাত্রীরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১১ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে যেসব রুটে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা বিচ্ছিন্ন থাকে, সেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। অনেক যাত্রী পুরো যাত্রাপথে নির্বিঘ্নে ভিডিও স্ট্রিমিং ও অনলাইন কাজ করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন।

এই সাফল্যের ভিত্তিতে এখন বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একক সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীরা ট্রেন, বাস ও ফেরিতে একই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ইন্টারনেট সুবিধা নিতে পারবেন। এতে গণপরিবহনে সংযোগব্যবস্থা আরও সমন্বিত ও সহজ হবে।

তবে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে। চলন্ত ট্রেনে স্থাপিত যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ, নির্দিষ্ট বগিতে সাময়িক ত্রুটি এবং দ্রুত মেরামতের সীমাবদ্ধতা এখনো বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব সমস্যা মূলত পরিচালনাগত এবং সময়ের সঙ্গে সমাধানযোগ্য।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইমাদুর রহমান বলেন, চলন্ত ট্রেনে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালুর পরীক্ষামূলক উদ্যোগে যাত্রীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এটি দেশে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের চাহিদার একটি ইঙ্গিত বহন করে।

এদিকে দেশের দুর্গম অঞ্চল-সীমান্ত এলাকা, হাওর ও নেটওয়ার্কবিহীন স্থানে ইতোমধ্যে ১১১টি পয়েন্টে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু হয়েছে, যেখানে ফাইবার অপটিক বা মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন কঠিন।

একইসঙ্গে দেশের নিজস্ব বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ এর ব্যবহারও বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ৬৬টি টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচার সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্যাটেলাইট সেবা রপ্তানির সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনলাইন নিউজ পোর্টাল দেশের একটি গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন