হরমুজের পর আরেক প্রণালির দিকে নজর বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫৬ পিএম | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নতুন এক কৌশলগত পদক্ষেপ নজর কাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে ধারণা তৈরি হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো এখন মালাক্কা প্রণালির দিকেও নজর বাড়াচ্ছেন।
এই চুক্তির ফলে মার্কিন সামরিক বিমানগুলো ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমায় আরও বিস্তৃতভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের অংশ হলেও বিশ্লেষকদের মতে এর মাধ্যমে মালাক্কা প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও সামরিক উপস্থিতি বাড়তে পারে।
মালাক্কা প্রণালি ভারত মহাসাগর ও পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্ত করেছে। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে এই পথের ব্যবস্থাপনা করে।
হরমুজ প্রণালি যেখানে মূলত তেল পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে মালাক্কা প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্যের বিস্তৃত লাইফলাইন হিসেবে কাজ করে। এই পথে জ্বালানি ছাড়াও তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিকস ও শিল্পপণ্য পরিবাহিত হয়। বিশেষ করে চীন এই রুটের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা ‘মালাক্কা ডিলেমা’ হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে, এই প্রণালি ঘিরে পরিবর্তিত পরিস্থিতি ভারতকেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। প্রণালির পশ্চিম প্রবেশমুখের কাছে অবস্থিত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের জন্য একটি প্রাকৃতিক নজরদারি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
বিশেষ করে ক্যাম্পবেল বে-তে ভারতের দক্ষিণতম বিমানঘাঁটি এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে। অবকাঠামো উন্নয়ন অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ভৌগোলিক সুবিধা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলার ক্ষেত্রে।
তবে মালাক্কা প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত ভূমিকা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। কারণ, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক সীমা নিয়ে সংবেদনশীল অবস্থান ধরে রেখেছে।
অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর ছোট অংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও উন্নত বন্দর ও বৈশ্বিক শিপিং ব্যবস্থার কারণে এই প্রণালির অর্থনৈতিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সব মিলিয়ে, বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতেও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার বৃহত্তর কৌশল বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
এসকে/টিএ