মন্ত্রিসভা ১৫ সদস্যে নামিয়ে আনল মালদ্বীপ সরকার
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৩৪ পিএম | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় এবং গণভোটে ধাক্কা খাওয়ার পর মালদ্বীপের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল করেছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। আজ বুধবার দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে ২০ সদস্যের মন্ত্রিসভাকে কমিয়ে ১৫ সদস্যে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনী ব্যর্থতার পর জনমনে নিজেদের ভাবমূর্তি উদ্ধারের লক্ষ্যেই প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানো এবং ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা ১৫ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই রদবদলে মন্ত্রিসভায় চারজন নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিলকে সরিয়ে লন্ডনে নিযুক্ত মালদ্বীপের হাইকমিশনার ইরুতিশাম আদমকে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এই রদবদলের প্রেক্ষাপট তৈরিতে গতকাল মঙ্গলবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহামেদ ঘাসান মাউমুনসহ ৯ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদে কে আসছেন, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
মাত্র ১০ দিন আগে মালদ্বীপে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট এবং স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে খরচ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালদ্বীপের জনগণ গণভোটে এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।
একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর দল ‘পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেস’ (পিএনসি) বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে।
প্রধান বিরোধী দল মালদ্বীপিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এমডিপি) রাজধানী মালে এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম নির্বাচনী এলাকা আদ্দুর গুরুত্বপূর্ণ কাউন্সিলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে অবস্থিত হওয়ায় ১ হাজার ১৯২টি প্রবাল দ্বীপের এই ক্ষুদ্র দেশটির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। প্রায় ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষের এই দেশটিতে প্রভাব বিস্তার নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতা চলছে। মুইজ্জু সরকারের চীনপন্থী হিসেবে পরিচিতি থাকলেও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তাঁর পররাষ্ট্রনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় নির্বাচনে হারের পর মন্ত্রিসভার এই রদবদল মুইজ্জু সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিল। বিরোধীরা দাবি করছে, সরকারের ওপর জনগণের আস্থা দ্রুত কমছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই ছোট মন্ত্রিসভা নিয়ে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু কীভাবে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন।
সূত্র: এএফপি ও মালে সংবাদ সংস্থা
এমআর/টিএ