© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে ৩০ বিলিয়ন ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

শেয়ার করুন:
রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে ৩০ বিলিয়ন ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩৫ পিএম | ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহের ওপর ভর করে ফের স্বস্তির বার্তা দিয়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। চলতি ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে। দীর্ঘ সময় পর এটি ৩০ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করল। একই সময়ে মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

রিজার্ভ বাড়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্স। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে এসেছে ১ দশমিক ৬০৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ২৮৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৫ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু ১৩ ও ১৪ এপ্রিল- এই দুই দিনেই এসেছে ১৭১ মিলিয়ন ডলার, যা দৈনিক প্রবাহের ধারাবাহিক শক্তিশালী অবস্থানকে নির্দেশ করে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৭ দশমিক ৮১৬ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২৩ দশমিক ০৬৯ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৬ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক খাতকে কিছুটা হলেও স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।

গত মার্চ মাসে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার, বৈধ চ্যানেলে প্রণোদনা এবং ডলার বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা- এই তিনটি কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। পাশাপাশি রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতাও এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা রিজার্ভ পুনর্গঠনে বড় সহায়ক হলেও সামগ্রিক অর্থনীতির ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং ডলার বাজারের চাপ এখনো বিদ্যমান।

ফলে রিজার্ভের এই অর্জন ধরে রাখতে হলে রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং বৈদেশিক আয়ের উৎস বহুমুখীকরণ জরুরি।

তবে স্বল্পমেয়াদে রেমিট্যান্সই এখন দেশের অর্থনীতির প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডলার সংকট মোকাবেলা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং বৈদেশিক লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে এই প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ওপর ভর করেই আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। তবে এই ধারা টেকসই রাখতে হলে কাঠামোগত সংস্কার এবং বৈদেশিক আয়ের অন্যান্য খাতেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন