ইউক্রেনকে আর বিনামূল্যে অস্ত্র দেবে না যুক্তরাষ্ট্র: জেডি ভ্যান্স
ছবি: সংগৃহীত
১১:২০ এএম | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
ইউক্রেনকে বিনামূল্যে অস্ত্র সরবরাহ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। জর্জিয়ায় এক অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, জনগণের করের অর্থে কিয়েভকে অস্ত্র কিনে সরবরাহ করা বন্ধ হয়ে গেছে। তবে তিনি জানান, ইউরোপীয়রা চাইলে নিজেদের অর্থে অস্ত্র কিনে কিয়েভকে দিতে পারে।
এদিকে চীন সফরে গিয়ে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, কিয়েভকে নিয়ে নতুন সামরিক জোট গঠনের পায়তারা করছে পশ্চিমারা। যুদ্ধের ময়দানে গত একদিনে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে।
যুদ্ধের ময়দানে পাল্টাপাল্টি হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন। গত একদিনে বিভিন্ন স্থানে ২ শতাধিকবার মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়েছে দুপক্ষ। এছাড়া দিনিপ্রোপেত্রভস্ক এবং জাপোরিঝিয়াসহ একাধিক অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালিয়েছে রুশ সেনারা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোররাত থেকে ওডেসা বন্দরসহ ইউক্রেনের অন্তত নয়টি স্থানে তিন শতাধিক ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও আবাসিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইউক্রেনের চলমান হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হচ্ছে রুশ শিবিরেও। গত একদিনে রাশিয়ার বহু সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ। একই সঙ্গে শত্রুপক্ষের আর্টিলারি ও রকেট সিস্টেম এবং প্রায় এক হাজার ৪০০টি ড্রোন ধ্বংস করার দাবিও তাদের। তবে জেলেনস্কি বাহিনীর এমন প্রতিরোধের মুখেও ক্রেমলিন দমে না গিয়ে দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে অভিযানের তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেন যখন সামরিক সহায়তার আশায় পশ্চিমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, ঠিক তখনই বিস্ফোরক এক মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। জর্জিয়ায় এক অনুষ্ঠানে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে অস্ত্র কিনে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।
ভ্যান্স বলেন, ইউরোপীয়রা চাইলে নিজেদের অর্থে অস্ত্র কিনে কিয়েভকে দিতে পারে, কিন্তু মার্কিন করদাতাদের অর্থ এই যুদ্ধে আর ব্যয় করা হবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তকে নিজেদের বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন অবস্থান রণক্ষেত্রে ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকের পর পশ্চিমা দেশগুলোকে হুঁশিয়ার করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। বুধবার তিনি দাবি করেন, কিয়েভকে নিয়ে ইউরোপে একটি নতুন সামরিক জোট গঠনের পাঁয়তারা করছে ওয়াশিংটন।
ল্যাভরভের দাবি, রাশিয়াকে ঠেকানোর দায় ইউরোপের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের মুক্ত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, যাতে তারা এশিয়ায় চীনের বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করতে পারে। ইউক্রেনে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের শান্তি রক্ষা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাকেও রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন ল্যাভরভ।
কেএন/এসএন