© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মাত্র ৪০ মিনিটে বিয়ের সাজে নজর কেড়েছিলেন রাশমিকা !

শেয়ার করুন:
মাত্র ৪০ মিনিটে বিয়ের সাজে নজর কেড়েছিলেন রাশমিকা !

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৩৪ পিএম | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
 গা ভর্তি গয়না। খোলা চুল। সিঁদুরে লাল রঙের শাড়ি। চওড়া পাড়। ভারী কাজের ব্লাউজ। বিয়েতে যেন স্বর্গের দেবীর মতো সেজেছিলেন রাশমিকা  ব্যতিক্রমী বিয়ের সাজে চমক দিয়েছিলেন বিজয়ও। অভিনেত্রীর বিয়ের সাজ দেখে মুগ্ধ হননি, এমন মানুষের সংখ্যা নেই বললেই চলে। বেশ কয়েকদিন ধরে তাঁর সাজ নিয়ে আলোচনাও হয়েছে যথেষ্ট।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরের বিলাসবহুল প্যালেসে বসেছিল বিয়ের আসর। ঘনিষ্ঠ বৃত্তে বিয়ে সারেন দু'জনে। বিয়ের কয়েকঘণ্টা পর ছবি সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন 'বীরোশ'। 'পুষ্পা'র বিয়ের ছবি সকলের মন ভেঙেছিল ঠিকই। তবে তাঁদের বিয়ের ছবি, সাজগোজ নিয়ে আজও চর্চার যেন শেষ নেই।

এই সাজগোজে মূল ভূমিকা ছিল তানভি চেমবুরকারের। তিনিই হলেন রূপটান শিল্পী। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে সাক্ষাৎকার দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। রাশমিকাকে বিয়ের সাজ সাজানোর অভিজ্ঞতা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেন। মাত্র ৪০ মিনিটে নাকি একেবারে নববধূ হয়ে উঠেছিলেন অভিনেত্রী।


তনভি বলেন, "রাশমিকা আনন্দে যেন ঝলমল করছিল। বিয়ের আগের সন্ধ্যায় একটি অনুষ্ঠান ছিল ওঁর। সুতরাং সেভাবে ঘুমোতে পারেনি। আমাদের বলেছিলেন সাজানোর জন্য মাত্র ৪০ মিনিট সময় পাবেন। তবে আমরা ঘণ্টাখানেক সময় নিয়েছিলাম।"

মেকআপ শিল্পী আরও বলেন, "একেবারে মাথা থেকে পা পর্যন্ত তৈরি হতে রাশ্মিকা সবমিলিয়ে দেড়ঘণ্টা সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু রাশমিকা খুবই খুশি হয়েছিলেন। এমনকী যখন বিয়ের পর হেঁটে আসছিল, ওর চোখেমুখে যেন আনন্দের ঝিলিক দেখা গিয়েছিল। আর সে কারণে এত সুন্দর লাগছিল অভিনেত্রীকে।"

তানভি নাকি আশাই করেননি রাশমিকার বিয়ের সাজ এত ভাইরাল হবে। অভিনেত্রী নাকি তানভিকে বারবার বলেছেন, মেকআপ যেন কোনওভাবেই উগ্র না হয়ে যান। অর্থাৎ তিনি যেমন, তেমনই যেন দেখতে লাগে বিয়ের সাজে। সেইমতো কাজ শুরু করেন তানভি। বেস মেকআপের পরই চোখসজ্জার কাজ শুরু করেন। রাশ্মিকার চোখ এতই সুন্দর যে আর বিশেষ সাজানোর প্রয়োজন পড়েনি বলেই মত রূপটান শিল্পীর।

যতই তাড়াহুড়ো থাক না কেন। সাজগোজের ক্ষেত্রে বিয়ে নিয়মরীতি মানতে ভুলেননি সেলিব্রিটি যুগল। তাঁদের মেকআপ খুঁটিয়ে দেখলে চোখে পড়ে, বর-বউ দুজনের গালেই একরত্তি কালো টিকা। প্রথম দর্শনে যা তিল ভেবে ভুল হয়ে যায়! ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে কিন্তু গালে এমন কালো টিকা এঁকে দেওয়া অত্যন্ত সাধারণ ব্যাপার। বিশেষত, বিয়ের সাজের এ এক অবিচ্ছিন্ন অঙ্গই বলা চলে।

এই কালো টিকার নাম ‘দৃষ্টি বট্টু’। গুরুজনেরা নবদম্পতির মঙ্গল কামনায় এমন টিকা দিয়ে থাকেন। হিন্দু শাস্ত্রে এই কালো টিকার গুরুত্ব অপরিসীম। মনে করা হয়, আমাদের চারপাশে যে অশুভ শক্তি মিশে থাকে হাওয়া বাতাসে, তার কুনজর মানুষ, প্রাণী এমনকী জিনিসের প্রতিও পড়তে পারে। এই নেগেটিভ এনার্জির হাত থেকে বাঁচাতে, রক্ষাকবচের মতো কাজ করে কালো টিকা বা দৃষ্টি বট্টু।

শুধু বিয়েই নয়। অন্য কোনও ইভেন্টে যাওয়ার আগেও তানভিই রাশমিকার সাজগোজের দায়িত্ব নেন।রাশমিকার সঙ্গে কাজ করে খুবই খুশি তানভি। রাশমিকার উচ্ছ্বলতাই তাঁকে আরও বেশি মোহময়ী করে তোলে বলেই মত রূপটান শিল্পীর।

বিজয়-রাশমিকার বিয়েতে গোপনীয়তা বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 'বীরোশ' ছাড়া অন্য কেউ যাতে ছবি ভাইরাল করতে না পারেন, সেদিকে সকলের নজর ছিল। সে কারণে রাশমিকাকে সাজানোর সময় 'নো ফোন পলিসি' মেনে চলেন রূপটান শিল্পী তানভিও। সাজগোজ করানোর পর দু'জনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। বহুদিন পর কারও বিয়ের অনুষ্ঠানে এতটা মজা করেন বলেই জানান রূপটান শিল্পী।

সাজে তেমন সময় দিতে পারেননি ঠিকই। তবে রাশমিকাও বিজয়ের গা ভর্তি গয়না গড়া হয়েছিল অনেকদিন ধরেই। হায়দ্রাবাদের প্রসিদ্ধ ‘শ্রী জুয়েলার্সে’র তৈরি গয়নায় সেজেছিলেন তাঁরা। প্রতিটি গয়নায় দাক্ষিণাত্যের ঐতিহ্য এবং আভিজাত্যই যেন ফুটে উঠেছিল।

রাশমিকার গলায় ছিল কাসু মালা। গলা থেকে নাভি পর্যন্ত ললন্তিকার স্টাইল। হারটির সবচেয়ে বড় লকেটে দেবী লক্ষ্মী। ছোট তিনটি লকেট কল্কার কাজ। একেবারে গলায় লকেট চাকার মতো। ছোট ও বড় মটরদানার মিশেলে তৈরি হার। প্রায় ১০ মাস ধরে গয়না তৈরি করা হয়।

সবমিলিয়ে বিজয় ও রাশমিকার বিয়ে যে বেশ ব্যতিক্রমী, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বিয়ে থেকে রিসেপশন - প্রতিক্ষেত্রেই সাজসজ্জায় সেলেব দম্পতির নিজেদের সংস্কৃতির ছাপ স্পষ্ট। আর সে কারণেই তাঁদের সাজসজ্জা যেন অন্য মাত্রা পেয়েছে।

এসএ/এসএন

মন্তব্য করুন