তেল সংকট মোকাবেলায় এশিয়ার দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে জাপান
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫০ পিএম | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় এশিয়ার দেশগুলোকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে জাপান। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই নতুন সহযোগিতা কাঠামোর ঘোষণা দেন।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে জাপান সরবরাহ চেইনের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং আমরা পারস্পরিকভাবে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।’ হরমুজ প্রণালীতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এশিয়া জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে যে তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, তার প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১০ বিলিয়ন ডলারের এই সহায়তা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর প্রায় এক বছরের তেল আমদানির সমপরিমাণ। এই উদ্যোগকে বাংলাদেশসহ স্বাগত জানিয়েছে ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা।
প্রকল্পের অর্থায়ন জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন, নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন্স্যুরেন্স, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো জাপানের রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে আসবে। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ জাপানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
২০২৫ সালের শেষে জাপানের মজুত তেল দিয়ে ২৫৪ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব ছিল। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে ইতোমধ্যে সেই মজুত থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে দেশটি।
গত মাসে রেকর্ড ৫০ দিনের সমপরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার পর আগামী মে মাসের শুরুতে আরও ২০ দিনের মজুত ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে তেলের দাম বাড়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতেও উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ে অনেক দেশে মানুষকে কারপুলিং (গাড়িতে কয়েকজনের একসঙ্গে যাত্রা) করতে ও এয়ারকন্ডিশনার বেশি কম তাপমাত্রায় ব্যবহার না করতে বলা হয়েছে। ফিলিপাইন ইতোমধ্যে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
জাপানের আয়োজিত ওই বৈঠকে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ভাগাভাগি চুক্তি সক্রিয় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এশিয়ার কোনো একক দেশের পক্ষে এত বড় সরবরাহ সংকট একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।’
আরআই/ এসএন