ধনী ও প্রভাবশালীরাই বিশ্বের শান্তি নষ্ট করছে: পোপ লিও
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪৬ পিএম | ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
আফ্রিকার চার দেশে ১০ দিনের সফরের অংশ হিসেবে আলজেরিয়া থেকে ক্যামেরুন পৌঁছেছেন পোপ চতুর্দশ লিও। সেখানে দেশটির দীর্ঘমেয়াদী প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার উপস্থিতিতে দেওয়া এক ভাষণে পোপ অত্যন্ত কড়া ভাষায় দুর্নীতি ও প্রভাবশালীদের নেতিবাচক ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে মূলত ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরাই বিশ্বজুড়ে শান্তিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানী ইয়াউনদেতে ক্যামেরুনের ৯৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট পল বিয়া এবং প্রধানমন্ত্রী জোসেফ ডিওন এনগুটেসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সামনে পোপ আহ্বান জানান যেন কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে দুর্নীতি নির্মূল করে এবং ধনী ও প্রভাবশালীদের খেয়ালখুশি প্রতিরোধে সক্রিয় হয়।
পোপ লিওর মতে, শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রধান অন্তরায় হলো দুর্নীতির শৃঙ্খল, যা কেবল কর্তৃপক্ষকে কলঙ্কিতই করে না, বরং সাধারণ মানুষের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতাকেও ধূলিসাৎ করে দেয়। ২০২৫ সালের নির্বাচনে অষ্টম মেয়াদে বিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগে তার নিজ কন্যা ব্রেন্ডা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাবার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার যে ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন, তা পোপের এ সফরের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ক্যামেরুনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পোপ লিও দেশটির ইংরেজি ভাষাভাষী অঞ্চলে চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে দেশটির উত্তরাঞ্চলে বোকো হারামের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীর তান্ডবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ কেবল মৃত্যু আর ধ্বংসই আনে না, এটি তরুণ প্রজন্মের শিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে কেড়ে নিচ্ছে। 'আর যুদ্ধ নয়' এই বার্তা দিয়ে তিনি নির্বাসন ও যন্ত্রণার অবসান ঘটানোর দাবি জানান। ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সফরসূচি অনুযায়ী শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) উপকূলীয় শহর ডুয়ালাতে পোপের এক বিশাল গণপ্রার্থনা বা 'মাস' অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রায় ৬ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোপের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের সমালোচনার কারণে তার ওপর আক্রমণাত্মক মন্তব্য করলেও পোপ লিও তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। ক্যামেরুন যাওয়ার পথে বিমানেই তিনি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, কোনো সমালোচনা বা চাপের মুখে তিনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করবেন না। তিনি বিশ্বজুড়ে সব মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
৭০ বছর বয়সী পোপ ১০ দিনের সফরে প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছেন, যার মধ্যে ক্যামেরুন শেষে অ্যাঙ্গোলা এবং নিরক্ষীয় গিনি ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে। মোট ১৮টি ফ্লাইটে আফ্রিকার ১১টি শহর ভ্রমণের বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে মানবিক সংলাপ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
এবি/টিএ