মার্কিন অবরোধের মধ্যেই হরমুজ পাড়ি দিলো পাকিস্তানি তেলবাহী জাহাজ
ছবি: সংগৃহীত
০২:৫৭ পিএম | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করে বেরিয়ে এসেছে। এটিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য ব্লুমবার্গ বলছে, সপ্তাহান্তে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করা পাকিস্তানের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম জাহাজ, যা অপরিশোধিত তেল নিয়ে এই প্রণালি পার হলো।
পাকিস্তানের পতাকাবাহী এই জাহাজটির নাম ‘শালামার’। জাহাজটি বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের লারাক দ্বীপের দক্ষিণ দিয়ে ওমান উপসাগরে প্রবেশ করে। জাহাজ ট্র্যাকিং সাইটের তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দাস দ্বীপ থেকে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বোঝাই করা হয়েছিল জাহাজটিতে।
এই আফ্রাম্যাক্স শ্রেণির ট্যাংকারটি আংশিকভাবে (প্রায় অর্ধেক) ভর্তি ছিল এবং এর গন্তব্য হিসেবে করাচির সংকেত দেয়া হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডনও নিশ্চিত করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এটিই প্রথম তেলবাহী জাহাজ, যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হয়েছে।
তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন অবরোধ কার্যকরের পর পাকিস্তানি জাহাজের হরমুজ প্রণালি থেকে বের হওয়ার এই বিরল ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে এখন জাহাজ চলাচল কতটা সীমিত হয়ে পড়েছে। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, শালামার বৃহস্পতিবার রাতে ওমান উপসাগরের দিকে যাত্রা করে।
এই পারাপারটি মার্কিন অবরোধ শুরুর পর প্রথম তেলবোঝাই জাহাজের প্রস্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে চলাচল নিয়ে জাহাজ মালিকদের মধ্যে ঝুঁকির আশঙ্কা বেড়েছে। এদিকে হরমুজ সংকটের জেরে বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টারও ইঙ্গিত মিলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং শুক্রবার জানান, সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি দক্ষিণ কোরীয় ট্যাংকার লোহিত সাগর দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার মৎস্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প রুট ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ওই জাহাজটি নিরাপদে লোহিত সাগর ত্যাগ করেছে।
মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত সীমিত হয়ে গেছে। প্রতিদিন খুব অল্পসংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে, যদিও গত সপ্তাহান্তে জাহাজ চলাচল কিছুটা বৃদ্ধি পেতে দেখা গিয়েছিল।
সাম্প্রতিক মার্কিন নৌ বিধিনিষেধ অনুযায়ী, উপসাগর থেকে তেল বা পণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজগুলোকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষের অনুমতি নিতে হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। আনাদোলু বলছে, শালামার প্রথমে গত রোববার উপসাগরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ফিরে যায়। পরে আবার প্রবেশ করে দাস দ্বীপ থেকে তেল বোঝাই করে বৃহস্পতিবার পূর্ব দিকে যাত্রা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গত তিন দিনে ১৪টি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
এ থেকে বোঝা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক জাহাজ মালিকই এই প্রণালি দিয়ে চলাচলে ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অবরোধ ওমানের রাস আল হাদ উপকূল থেকে ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
এসএস/এসএন