হরমুজ ইস্যুতে ৪০ দেশ নিয়ে বৈঠকে বসছে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য
ছবি: সংগৃহীত
০৪:০৪ পিএম | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি আবার চালু করতে প্রায় ৪০টি দেশ নিয়ে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্যারিসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবে এই দুই পরাশক্তি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান মূলত নিজেদের ও কিছু মিত্রদেশের জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। এর মধ্যে সোমবার ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়া জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্যান্য দেশকে এই অবরোধ কার্যকর করতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে ন্যাটো মিত্রদের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করেছেন। তবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ অন্য দেশগুলো বলেছে, অবরোধে যোগ দেয়া মানে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া। তারা জানিয়েছে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত শেষ হলে প্রণালিটি খোলা রাখতে তারা সহায়তা করতে প্রস্তুত।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে আলোচিত উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলছেন, বাস্তবসম্মত কোনো মিশন শেষ পর্যন্ত এই দুই দেশের সঙ্গে সমন্বয় করেই পরিচালনা করতে হবে এবং বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে অবহিত করা হবে।
আটকে পড়া নাবিকদের নিরাপত্তা
আমন্ত্রিত দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক নোট অনুযায়ী, বৈঠকের লক্ষ্য হলো- হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলের প্রতি পূর্ণ কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরা।
এছাড়া বৈঠকে শিপিং শিল্পের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং ২০ হাজারের বেশি আটকে পড়া নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হবে। পরিস্থিতি অনুকূল হলে নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে একটি প্রতিরক্ষামূলক বহুজাতিক সামরিক মিশন মোতায়েনের প্রস্তুতির বিষয়টিও থাকবে আলোচনায়।
বৈঠক শেষে একটি সভাপতির পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেয়া হবে, যাতে সম্ভাব্য মিশনের কাঠামো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। তবে কোন দেশ কী ধরনের অবদান রাখবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে মিশন
প্যারিসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেস এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেবেন।
চীনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা অংশ নেবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। কয়েকজন কূটনীতিক মনে করছেন, যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে এই মিশন বাস্তবায়নের প্রয়োজন নাও হতে পারে। একজন জ্যেষ্ঠ ফরাসি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই মিশনের আওতায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, মাইন অপসারণ, সামরিক প্রহরা এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বিত তথ্য বিনিময়ের মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে।
এমআই/এসএন