মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৫ পিএম | ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে বিভেদ বা শত্রুতা নয়, বরং ভ্রাতৃত্বের সম্পর্কের মাধ্যমেই শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করব। তবে তা যেন হয় মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্কের মাধ্যমে।’
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর আলফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা ও মহানগর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিমের সঞ্চালনায় সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান দেশের বর্তমান সংকট ও শ্রমিকদের দুর্দশা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
সংসদে তেলের বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ‘জাতীয় সংসদে তেল বেড়ে যাওয়াই সারা দেশে আজ তেলের সংকট। একজন পরিবহন শ্রমিক দৈনিক কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করে সর্বোচ্চ ২০০০ টাকার তেল পায়। শ্রমিকদের সারাদিন তেলের জন্যই সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে তাদের উপার্জন কমে যাচ্ছে। ওদিকে পাম্পগুলো বলছে আমরা আগের অর্ধেক তেল পাই। শ্রমিকদের পরিবারগুলো তাদের আয় কমে যাওয়ায় কষ্টের সীমা আরো বেড়েছে। অথচ এ বিষয়ে সংসদে কথা বলতে চাইলে বলতে দেওয়া হয় না।’
জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের জোটকে পরিকল্পিতভাবে হারানোর ইঙ্গিত দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যদি জনগণকে ধোঁকা দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় গিয়ে থাকে তাহলে সে বা তারা নিজেদেরকেই ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে। তারা দেশের কল্যাণ চায় না। তাদের মনে রাখতে হবে জনগণ তাদের একই কাজ বারবার করতে দিবে না, সামনে জনগণ এগুলোর প্রতিরোধ করবে।’
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে কিছু সুযোগ-সুবিধা নিব না- আমরা সে কথা রেখেছি। আমাকেও গাড়িসহ যে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, লিখিতভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছি।’
শ্রমিক নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সর্বদা মাঠে কাজ করে যেতে হবে। তবে কোনো অবস্থায় কোনো নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ফ্যাক্টরিতে নৈরাজ্য সৃষ্টি হলে শুধু মালিক নয় বরং মালিক, শ্রমিক ও দেশের জনগণ সবাই তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এজন্য সকল নৈরাজ্য ঠেকাতেও পদক্ষেপ নিতে হবে।’
নতুন ব্যাংক আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘নতুন ব্যাংক আইনের মাধ্যমে ব্যাংক ডাকাতদের হাতে জনগণের আমানতের টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা এর প্রতিরোধ করব ইনশাআল্লাহ্।’ গণমাধ্যমের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, অনেক সময় মিডিয়াকে সত্য প্রকাশ করতে দেওয়া হয় না, তাদের মিথ্যা প্রচারে বাধ্য করা হয়। এসবের বিরুদ্ধেও তারা সংসদে কাজ করছেন বলে জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এদেশের শ্রমিকদের চাওয়া-পাওয়া খুব মামুলী হলেও কোনো সরকার তা পূরণ করেনি। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র ক্ষমতায় যারা যায় তারা তো সোনার চামচ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। ফলে তারা শ্রমিকদের দুঃখ-কষ্ট অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়।’
শ্রমিকদের উত্তেজিত করার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘মালিক যদি না থাকে তাহলে শ্রমিকরা কাজ করবে কোথায়? তারা মালিক-শ্রমিকের মাঝে বিভেদের দেয়াল তুলতে চাইলেও আমরা ভাইয়ের সম্পর্ক তৈরি করতে চাই। ইসলাম বলে, শ্রমিক-মালিক পরস্পর সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করবে। শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে, শিল্পও বাঁচবে।’
পরিশেষে সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শ্রমিকের সব দায়িত্ব শুধু মালিকের ঘাড়ে চাপালে চলবে না, রাষ্ট্রকেও দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি শ্রমঘন এলাকায় বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং শ্রমিকদের সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকারি উদ্যোগের জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির আ.ন.ম. শামছুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের সব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। অতীতে শ্রমিকরা নেতাদের স্বার্থে ব্যবহৃত হলেও তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
আরআই/টিকে