স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশি জনবল নিতে আগ্রহী লিবিয়া
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১৯ এএম | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
লিবিয়ার স্বাস্থ্য খাতে জনবলের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে হাসপাতাল ও বিশেষায়িত কেন্দ্রগুলোতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের কাছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়েছে দেশটি।
গত বৃহস্পতিবার লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহর সঙ্গে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-গৌজের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়।
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও লিবিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। অতীতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী লিবিয়ার স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং বর্তমানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পেশাজীবী বিভিন্ন হাসপাতালে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা অনিয়মিত থাকা সত্ত্বেও তারা পেশাগত দায়িত্বে অবিচল থেকে সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন, যা লিবিয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ জনগণের কাছে তাদের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করেছে।
রাষ্ট্রদূত বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত করায় মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কয়েকজন পেশাজীবীর বেতন-ভাতা এখনো প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতার কারণে নিয়মিত হয়নি এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।
পাশাপাশি বর্তমানে কর্মরত ও দেশে প্রত্যাবর্তনকারী সব বাংলাদেশি পেশাজীবীর বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিতকল্পে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এছাড়া, রাষ্ট্রদূত বর্তমান এক্সচেঞ্জ রেট অনুযায়ী চুক্তি নবায়ন, চুক্তিভিত্তিক প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।
জাবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-গৌজ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা করেন এবং বেতন-ভাতা প্রদানে বিলম্ব হওয়ায় আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাসিক বেতন-ভাতা নিয়মিত করা হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অন্যান্য বিষয়গুলো সমাধান এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
দেশে প্রত্যাবর্তনকারীসহ সব বাংলাদেশি পেশাজীবীর বকেয়া বেতন পরিশোধের লক্ষ্যে একটি বিশেষায়িত কমিটি কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকের শেষে উভয়পক্ষ পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার রাখা এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।
কেএন/টিকে