আইএমএফের অনেকগুলো শর্ত আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে : অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৪:১৮ পিএম | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে হওয়া চুক্তির অনেকগুলো শর্ত বর্তমান সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইএমএফের সঙ্গে শুরু হওয়া কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে অনেক ধরনের শর্ত দেওয়া আছে। এর মধ্যে অনেকগুলো শর্ত তো আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।’
আইএমএফের সঙ্গে চলমান আলোচনার সময়সীমা উল্লেখ করে আমির খসরু জানান, সংস্থাটির সঙ্গে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন, এমনকি এক মাস পর্যন্ত আলোচনা চলতে পারে। তবে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে ঋণ আলোচনায় এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার সব সময় সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও সামাজিক নিরাপত্তা মাথায় রেখে কাজ করছে। সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দাতা সংস্থাগুলোর কাছেও উচ্চ প্রশংসা পেয়েছে বলে জানান তিনি। সব দাতা সংস্থাই বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, শিগগির বিশ্বব্যাংক ও এডিবির প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে আসবেন।
যেসব শর্ত দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেগুলো গ্রহণ করা হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, কর্মসূচিটির মেয়াদ আরও ছয়-সাত মাস রয়েছে। এর পর ভবিষ্যতে নতুন কোনো কর্মসূচিতে যাওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্তও সরকার নিজেই নেবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই এমন কোনো শর্ত গ্রহণ করা হবে না, যা দেশের জনগণ, অর্থনীতি বা ব্যবসায়ীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে। আমাদের একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। জনগণের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
শর্ত সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রকাশে অপারগতা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আলোচনা শেষ হওয়ার আগে এসব বিষয় জনসমক্ষে আনা সম্ভব নয়। তিনি জানান, আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবে এবং আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এসব সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী।
সংস্কার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অনেক দিকেই সামঞ্জস্য রয়েছে। অতীতে অসম্পূর্ণ থেকে যাওয়া বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম সরকার নিজস্ব উপায়ে সম্পন্ন করছে, যাতে সুশাসন নিশ্চিত হয় এবং জনগণ উপকৃত হয়।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ, যা জনগণের কাছে ইতিবাচকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোও সামাজিক সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেয় এবং এ ধরনের কর্মসূচিকে সমর্থন করে।
অতিরিক্ত বৈদেশিক সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশকে সহায়তা করতে আগ্রহী বলেই আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতে কী পরিমাণ সহায়তা পাওয়া যাবে, তা আলোচনা শেষ হওয়ার পরই নির্ধারিত হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাংক ছাড়াও বাংলাদেশের সঙ্গে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক সংস্থার আলোচনা চলছে। এসব সংস্থার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা এখনো শেষ হয়নি, বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা আরও কয়েক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোয় মুদ্রাস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেই মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে, এমন সরল সমীকরণ সব সময় প্রযোজ্য নয়। এটি সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সরকার যদি জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারে, তাহলে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব।
আইকে/টিএ