দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা 'বিয়ন্ড রিপেয়ার': স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২৯ পিএম | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
বিগত সরকার ভুল পরিকল্পনা ও দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভঙ্গুর উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বর্তমান পরিস্থিতিকে 'মেরামতের অযোগ্য' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে ছোটখাটো সংস্কার বা 'হাতুড়ির টোকা' দিয়ে এই ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। তার মতে, বর্তমান ব্যবস্থাটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা সাধারণ মেরামতের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার এটাকেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ শুরু করেছে সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টারে আয়োজিত 'সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে সরকারের অগ্রাধিকার ও চ্যালেঞ্জসমূহ' শীর্ষক এক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাম্প্রতিক হামের ঘটনা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদি তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ এবং সঠিক সময়ে টিকাদান নিশ্চিত করা যেত, তবে শিশুদের আজ ভেন্টিলেশন বা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থার প্রয়োজন হতো না।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের করুণ চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বর্তমানে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা বলতে কার্যত কিছু অবশিষ্ট নেই। টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগ যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন জনস্বাস্থ্য কর্মী হিসেবে আমি বুঝি যে সেখানে চিকিৎসকদের করার খুব কমই থাকে। এটি মূলত আমাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ব্যর্থতা।"
ভুল নীতি বা 'রং পলিসি' শত শত শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পলিসি বা নীতিগত ব্যর্থতার দায়ভার এখনও এই খাতকে বইতে হচ্ছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, "পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলে মাঠ পর্যায়ে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ কাজ হয়নি, যার ফলে হাসপাতালগুলোর সেবা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।"
প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি যেমন ভয়াবহ, তেমনি এটি একটি বিশাল সুযোগও বটে। তিনি বলেন, "এই সুযোগের পেছনে একটি গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি রয়েছে। যেকোনো গণঅভ্যুত্থান মানুষের মনে বিশাল প্রত্যাশা তৈরি করে। আমরা সেই আকাশচুম্বী প্রত্যাশার ওপর দাঁড়িয়ে আছি।" তিনি আরও যোগ করেন, অতীতের রাজনৈতিক অচলায়তন ভেঙে বর্তমানে সব মহলের চিন্তাধারা বা 'মাইন্ডসেট' এখন একই সমান্তরালে আসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে 'প্রিভেনশন' বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধের বিষয়টিতে জোর দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, যদি আমরা সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পারি এবং তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারি, তবে অসংক্রামক ব্যাধি বা 'নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ'-এর প্রকোপ ও চাপ অনেকাংশে কমে আসবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে ড. এম এ মুহিত বলেন, "আমার মনে হয় না অতীতে কোনো সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দীর্ঘ সময় আগে থেকে বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সাথে মাসের পর মাস আলোচনা করে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করেছে। বর্তমান সরকার সেই প্রস্তুতি বা 'হোমওয়ার্ক' সেরেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যাতে একটি টেকসই ও স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।"
সেমিনারে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. জিয়া হায়দার, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বেন নূর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. নাজমুল হাসান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফোয়ারা তাসনিম ফ্লোরা, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি ডা. সাইফুল ইসলাম , আইসিডিডিআরবির আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী শরফুল ইসলাম খান ববি ও ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম প্রমুখ।
এসএন