© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি: জামায়াতের সংসদ সদস্য

শেয়ার করুন:
সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি: জামায়াতের সংসদ সদস্য

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:১৬ পিএম | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
বিএনপি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে-এমন অভিযোগ তুলে নীলফামারী-৩ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফী বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ নয়, বরং সবার আগে বিএনপির নেতা-কর্মীরা-এমন ধারণা জনমনে তৈরি হয়েছে।

আজ রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বিএনপি নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই প্রত্যাশা থেকে এত তাড়াতাড়ি তারা কীভাবে সরে এল? আমরা তো খুব আশান্বিত ছিলাম, খুশি ছিলাম যে-বিএনপি বলেছিল, ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পর্যন্ত, এমনকি আমার এলাকাতেও দেখেছি, পেট্রলপাম্পে তেল নিতে গেলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সবার আগে দেওয়া হয়। তাহলে এখন জনগণ বলছে, সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপির নেতা-কর্মীরা।’

ওবায়দুল্লাহ সালাফী বলেন, ‘এ দেশের মানুষ বলছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের দীর্ঘদিনের যে সংগীত ছিল-‘প্রথম বাংলাদেশ আমার, শেষ বাংলাদেশ’, সেটি রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে এখন হয়েছে-‘প্রথম সংবিধান আমার, শেষ সংবিধান, জীবন সংবিধান, মরণ সংবিধান’। এই অবস্থা থেকে যদি বিএনপি ফিরে না আসে, তাহলে এ দেশের মানুষ মনে করবে-‘‘আমাদের ভাগ্য নিয়ে আবারও ছিনিমিনি খেলা শুরু হয়েছে কি না।’’’

একই আলোচনায় জামায়াতের আরেক এমপি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নিজেও এই ঢাকা শহরে তিনটি পেট্রলপাম্প ঘুরে আমার গাড়িতে তেল পাইনি। আমি কয়েক দিন আগে নির্বাচনী এলাকায় গিয়েছিলাম। সেখানে লাইনের পর লাইন-তিন-চার কিলোমিটার পর্যন্ত মোটরসাইকেলের লাইন হয়েছে। সারা দেশে সড়কপথে যখন এসেছি, দেখেছি, এ রকম লাইনের পর লাইন। আর আজকে বলা হচ্ছে, তেলের কোনো সমস্যা নাই। এভাবে আমাদের আজকে সাধারণ জনমানুষকে দেখা যাচ্ছে বিক্ষুব্ধ করা হচ্ছে। এই বিস্ফোরণ ঘটলে এর জন্য বর্তমান সরকার দায়ী থাকবে।’

চাঁদপুর-৩ আসনের সরকারদলীয় এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ বলেন, ‘ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ জনবান্ধব কর্মসূচিগুলোর উদ্যোগ গ্রহণ করায় কেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের গাত্রদাহ হয়, তা আমার বোধগম্য নয়।’ যদিও গাত্রদাহ শব্দটি এক্সপাঞ্জ করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

এদিকে কয়েকজন সংসদ সদস্য তাঁদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যা তুলে ধরেন। নওগাঁ-১ আসনের সদস্য মো. মুস্তাফিজুর রহমান আম চাষের উন্নয়নে হিমাগার ও গবেষণাগার স্থাপনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সাপাহার সুস্বাদু আমের জন্য বিখ্যাত। সাপাহারকে এখন আমের রাজধানী বলা হয়। আপনি এবং সকল সদস্য এই সুস্বাদু আমের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেন। আমের স্বাদ এমন যে, একবার খেলে আবার খেতে চাইবেন। আমচাষিদের উন্নতির জন্য আম সংরক্ষণে হিমাগার, গবেষণাগার ও আমভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।’

নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘জিয়াউর রহমান, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন, যিনি ঘোষণা না করলে এবং সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিলে বাংলাদেশ হতো না, আমরা স্বাধীন হতাম না।’

নির্বাচনী এলাকার হাসপাতালের চিত্র তুলে ধরে ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সদর অঞ্চলের দুইটি ইউনিয়নে একটি হাসপাতাল আছে, নাম আধুনিক হাসপাতাল; কিন্তু সেখানে রোগী নিয়ে গিয়ে দেখি-ইমার্জেন্সিতে ইসিজি মেশিন নেই, ডায়াবেটিস চেক করার মেশিন নেই। আধুনিক হাসপাতাল না লিখে, ‘‘আধুনিক গরু’’ লিখে দিলে ভালো হতো। এমন অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে মানুষের যাওয়ার মতো কোনো পরিবেশ নেই।’

আওয়ামী লীগ আমলের শেয়ার কেলেঙ্কারির কথা উল্লেখ করে ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘সিন্ডিকেট ভুয়া আইপিও, ভুয়া প্লেসমেন্ট, জালিয়াতি, বিতর্কিত ফোরস ক্লোজারের মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেয়। অনেকে সবকিছু হারিয়ে আত্মহত্যা করে। আমি অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে সেখানে বিশেষ অভিযান চালানোর অনুরোধ করছি। ব্যাংকে মানুষের আস্থা ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ারও অনুরোধ করছি।’

সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করে সারা বাংলাদেশের মহিলাদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। লক্ষ করবেন, আমাদের অসহায় মহিলারা ফ্যামিলি কার্ডের প্রতি অত্যন্ত আকৃষ্ট এবং তাঁরা এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে চান। আমি মনে করিয়ে দিতে চাই, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যাঁরা আগে বিদ্রূপ করেছিলেন, তাঁরা এখন নিশ্চয়ই লুকিয়ে লুকিয়ে লজ্জা পান।’

নির্বাচনী এলাকার হাসপাতালের চিত্র তুলে ধরে সুনামগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরী বলেন, ‘ডাক্তার নেই, চিকিৎসকের অভাব, নার্স নেই। মারাত্মকভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের দেশের মানুষ, আমাদের এলাকার মানুষ। তাই বলতে হয়, ডাক্তার দিন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাহেবকে বলতে হয়, দয়া করে নার্সের ব্যবস্থা করুন, অপারেশনের ব্যবস্থা করুন। এটা আমাদের মৌলিক অধিকার।’

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সদস্য মো. নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘বিরোধীদলীয় বন্ধুদের উদ্দেশে বলতে চাই, জুলাই যুদ্ধ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আমিও একজন জুলাই যোদ্ধা। এই জুলাই আন্দোলনে আমি সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিলাম। কিন্তু জুলাই আন্দোলন ছিল একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ, যে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জননেতা তারেক রহমান। এটি ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শেষ পর্ব। কিন্তু আমরা সেটি স্বীকার করছি না।’

নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘খেলার প্রথম রাউন্ড, দ্বিতীয় রাউন্ড, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল না খেলে সরাসরি ফাইনাল খেলে জিতে গেলাম, বিষয়টি কিন্তু তা নয়। ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে বহু ভাই-বোন প্রাণ দিয়েছেন, অনেকে আত্মাহুতি দিয়েছেন। আমরা সেদিকে যাচ্ছি না। আমাদের মনে রাখতে হবে, জুলাই যুদ্ধ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেরই একটি অংশ, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান।’

আরআই/ টিএ

মন্তব্য করুন