© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

২ মাসে রাশিয়ার জিডিপি ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে: পুতিন

শেয়ার করুন:
২ মাসে রাশিয়ার জিডিপি ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে: পুতিন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:০৪ এএম | ২০ এপ্রিল, ২০২৬
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) সম্মিলিতভাবে ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। গত বুধবার অর্থনীতি বিষয়ক এক টিভি অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য তুলে ধরে বলেন, উৎপাদন, শিল্প খাত এবং নির্মাণ কার্যক্রম- সবগুলোই বর্তমানে নেতিবাচক প্রবণতায় রয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিজনেস ম্যাগাজিন ফরচুন।

পুতিন বলেন, বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে নেমে গেছে, যা শুধু বিশেষজ্ঞ বা বিশ্লেষকদের নয়, সরকারের নিজস্ব পূর্বাভাস এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৈঠকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিনসহ শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং শ্রমবাজারে চাপ বেড়েছে, যা অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে জ্বালানি রফতানি কমে যাওয়ায় অর্থনীতি বড় ধাক্কা খায়। সম্ভাব্য নতুন সংকোচন হলে সেটিই হবে সেই সময়ের পর প্রথম।

যদিও বিপুল সামরিক ব্যয়ের ফলে ২০২৩ সালে ৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল, কিন্তু তেলের আয় কমে যাওয়া এবং বাজেট ঘাটতি বাড়ায় সরকারকে প্রতিরক্ষা ব্যয় সীমিত করতে হয়েছে। গত বছর প্রবৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ১ শতাংশে, আর চলতি বছরের জন্য পূর্বাভাস ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বাজেট ঘাটতি বেড়ে ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্চ মাসে তেল খাত থেকে কর আদায় আগের বছরের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা রাজস্ব আয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়ার তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রফতানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মস্কো পুরো সুবিধা নিতে পারছে না।

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এলভিরা নাবিউল্লিনা জানিয়েছেন, শ্রমিকের ঘাটতির কারণে দেশের বেকারত্বের হার ইতিহাসের সর্বনিম্ন ২ শতাংশে রয়েছে। এতে নিয়োগদাতাদের মধ্যে কর্মী পাওয়ার প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তিনি বলেন, আধুনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার অর্থনীতি শ্রমশক্তির সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছে, যা নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

অন্যদিকে, কঠোর শ্রমবাজার ও উচ্চ সুদের হার মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়ে তুলছে এবং আর্থিক ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে। চলতি বছরের শুরুতেই সরকারি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছিলেন, পরিস্থিতি অবনতি হলে গ্রীষ্ম নাগাদ একটি আর্থিক সংকট দেখা দিতে পারে।

উচ্চ সুদের হার এবং দুর্বল ভোক্তা চাহিদার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান চাপে পড়েছে। ফলে শ্রমিকদের বেতন বকেয়া থাকা, ছুটিতে পাঠানো বা কাজের সময় কমিয়ে দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এতে ভোক্তাদের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বাড়ছে।

রাষ্ট্রীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলোও সতর্ক করে বলেছে, ঋণ খেলাপি বাড়লে এবং আমানতকারীরা অর্থ তুলে নিতে শুরু করলে চলতি বছরের মধ্যেই ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। ব্যবসায়ী নেতারাও সতর্ক করেছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ‘ডিফল্টের পূর্ববর্তী অবস্থায়’ পৌঁছে গেছে।

তথ্যসূত্র: ফরচুন

এসকে/এসএন

মন্তব্য করুন