আজ থেকে শুরু হচ্ছে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন
ছবি: সংগৃহীত
০৬:০৯ এএম | ২০ এপ্রিল, ২০২৬
দেশে হাম রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর হার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে সরকার আজ সোমবার থেকে সারা দেশে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করছে। হামের টিকার জরুরি এই ক্যাম্পেইন শুরু হয় গত ৫ এপ্রিল। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাম প্রতিরোধে গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। ওই দিন থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এমআর টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম চালু হয়। তবে আজ সোমবার থেকে সারা দেশেই টিকা দেওয়া হবে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সহকারী পরিচালক ডা. হাসানুল মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, এ কর্মসূচির আওতায় ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সি প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে যেসব এলাকায় হামের সংক্রমণ বেশি, সেসব অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে শুরুতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি সব শিশু এমআর টিকা পাচ্ছে। আগে টিকা নেওয়া থাকলেও চলমান ক্যাম্পেইনের আওতায় পুনরায় টিকা গ্রহণ করা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। পরবর্তীতে ১২ এপ্রিল থেকে এ কর্মসূচি ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল- এই চারটি সিটি করপোরেশনে সম্প্রসারণ করা হয়। আগামীকাল থেকে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। আগে ৩ মে থেকে সারা দেশে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও তা এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডা. হাসানুল মাহমুদ জানান, ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। সারা দেশব্যাপী এই কর্মসূচি সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ মে পর্যন্ত এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ১২ মে পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সব স্থায়ী ও অস্থায়ী (আউটরিচ) কেন্দ্র থেকে এই টিকা প্রদান করা হবে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্মকর্তারা জানান, সারা বছর শিশু ও নারীদের ১২টি রোগ প্রতিরোধে ১০টি টিকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এমআর টিকাও অন্তর্ভুক্ত। নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রমে ৯ মাস থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদের এমআর টিকা দেওয়া হয়। তবে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে প্রতি বছর অন্তত ১০ শতাংশ শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়। ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সেই শিশুদের টিকার আওতায় আনা হয়। দেশে সর্বশেষ জাতীয় হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালে।
হাম সন্দেহে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু : এদিকে দেশে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশু এবং হামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে মোট ৩৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৮১ শিশুর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮০৪ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১৬৫ শিশুর। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেরই সর্বোচ্চ ১৪৮টি শিশু রয়েছে।
একই সময়ের মধ্যে হামে যে শিশুর মৃত্যু হয়েছে, সেটি ঢাকা বিভাগে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ১৯৭টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায়। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮০৪ শিশু। এর মধ্যে ৫৬৩ শিশুই ঢাকা বিভাগের।
এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৬৪৫ শিশু গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিভাগের ৩০০ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ২৩ হাজার ৬০৬ শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫ হাজার ৩২৬ শিশু। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৪৪৩ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৩৯৬।
এসকে/টিএ