মেয়ে হচ্ছেন বিএনপির এমপি, খুশি আওয়ামী লীগের সাবেক নেত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৯:২৫ পিএম | ২০ এপ্রিল, ২০২৬
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন। মেয়ের এই মনোনয়নপ্রাপ্তিতে খুশি জানিয়ে মা বললেন, ‘রাজনীতি নিয়ে আমাদের (মা-মেয়ে) মাঝে কোনো মতানৈক্য হয়নি। শ্বশুরবাড়ি থাকার সুবাদে আমার মেয়ে ঢাকাতেই রাজনীতি করেছে।’
নাদিয়া পাঠান পাপন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনীতি থেকে শুরু করে তিনি কেন্দ্র পর্যন্ত পদে আসীন হন। জুলাই অভ্যুত্থানেও তিনি সরাসরি মাঠে ছিলেন।
এদিকে নাদিয়া পাঠানের মা সৈয়দা নাখলু আক্তার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় জড়িত থাকার পাশাপাশি জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
নাখলু আক্তারের মেয়ে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি লিখেছেন, ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই। মা সৈয়দা নাখলু আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি, বিজয়নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন। কিন্তু উনার মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন বর্তমানে বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য মনোনীত হয়েছেন!’
বিজয়নগরের সন্তান হওয়ায় দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানোর কথা স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন।
তবে মনোনয়ন পাওয়ার পর নাদিয়া পাঠান পাপনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার বিকেলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সৈয়দা নাখলু আক্তার দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি আরো আগেই রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। আমার মেয়ে আরো আগে থেকেই রাজনীতি করত। তবে রাজনীতি নিয়ে তার সঙ্গে কখনো মতানৈক্য হয়নি।
মেয়ে এমপি হলে মায়ের যে অনুভূতি হওয়ার কথা, সেটাই আমার হচ্ছে।’
নাদিয়া পাঠান
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় নদিয়া পাঠান পাপন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। ২০০০ সালে বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দলের রাজনীতিতে তিনি সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় ২০০৪ সালে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০১৩ সালের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের হামলা, ২০১৫ সালে ঢাকা সিটি দক্ষিণ মেয়র নির্বাচনের দিন ভোটার স্লিপ বিতরণের সময় ছাত্রলীগের হামলা, ২০১৭ সালে জিয়া চ্যারিটেবল ও অরফানেজ মামলার হাজিরা শেষে আদালত থেকে বাসায় যাবার পথে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে হাইকোর্ট মাজার গেটের ব্যারিকেড ভেঙে নেতাকর্মীদের বের করে আনতে গেলে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হন। সর্বশেষ তিনি জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে ছিলেন।
এসএন