ক্রীড়া কার্ড না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ সুর কৃষ্ণ চাকমার
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫৮ পিএম | ২০ এপ্রিল, ২০২৬
আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া কার্ড চালু করেছে বাংলাদেশ সরকার। সব ধরনের খেলা থেকে দুই ধাপে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ এই কার্ড পেয়েছেন। তারা মাসে ১ লাখ টাকা করে ক্রীড়া ভাতাও পাবেন।
ক্রীড়া কার্ডের তালিকায় তারাই মনোনীত হয়েছেন যারা বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরেছেন।
কিন্তু এই তালিকায় নাম নেই বক্সার সুর কৃষ্ণ চাকমার। বাংলাদেশের প্রথম পেশাদার বক্সার হিসেবে যিনি বিশ্ব মঞ্চে লাল-সবুজ পতাকা ওড়াচ্ছেন।
ক্রীড়া কার্ড পেয়ে অন্যরা যখন উচ্ছ্বসিত তখন সুর কৃষ্ণর মনে হতাশার সুর। হতাশাটা আর চাপা রাখতে পারলেন না বুকে।
বাংলাদেশের হয়ে নিজের ঝুলিতে কত অর্জন রয়েছে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সুর কৃষ্ণর পোস্ট হুবহু নিচে তুলে দেওয়া হলো—
‘২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমস চ্যাম্পিয়ন এবং ২০১৪ সালে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয় দলের পথচলা। ২০১৫ সালে রিও অলিম্পিক স্কলারশিপের জন্য মনোনীত হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত স্কলারশিপের টাকা পেলাম না।
২০১৫ সালে ব্রিটিশ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আলী জেকো লন্ডনে উচ্চতর প্রশিক্ষণে নেয়ার জন্য ট্রায়াল নিতে আসেন। সেখানে সারা বাংলাদেশের জাতীয় বক্সারদের ট্রায়ালে ১ম সিলেকশন হয়।
পরবর্তীতে ফেডারেশনের সাথে জেকোর ব্যক্তিগত দ্বন্দের কারণে লন্ডন যাওয়া বানচাল হয়ে যায়। পরবর্তীতে জেকো স্যার ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে আমাকে লন্ডনে নিয়ে যায়। লন্ডনে ৫ মাস ট্রেনিং নেয়ার পর দেশে ফেরত আসি।
দেশে আসার পর জানতে পারি আমাকে ফেডারেশন থেকে ব্যান করা হয়েছে। তখন চলছিল শিলং গোহাতির সাফ গেমসের প্রস্তুতি।
লন্ডনে উচ্চতর ট্রেনিংয়ে আমার পারফরম্যান্স অনেক ভালো ছিল। দীর্ঘ দুই বছর ফেডারেশন থেকে নিষিদ্ধ থাকার কারণে চলে যায় ইন্ডিয়া তে প্রফেশনাল বক্সিংয়ের জন্য। ২০১৮ সালে দীর্ঘ ৬ মাস হরিয়ানায় ট্রেনিংয়ের পর ২ টা প্রফেশনাল বক্সিং করি এবং ২ টি তেই জয় লাভ করি। ২০১৮ সালে ফেডারেশনে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ হওয়ায় আবার জাতীয় দলে ডাক পায়।
সেখানে ট্রায়ালের মাধ্যমে সিলেকশন হওয়ার পর ২০১৯ সালের সাফের দলে জায়গা পায়। নেপালের কাঠমুন্ডুতে সাফ গেমসে ব্রোঞ্জ মেডেল অর্জন করি। ২০২০,২১ সালে বাংলাদেশ গেমস ও জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ২০২২ বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে যাওয়ার সুযোগ পায়।

২০২২ সাল থেকে এ্যামেচার বক্সিং বাদ দিয়ে পুরোদমে প্রফেশনাল বক্সিং শুরু করি। বাংলাদেশের প্রথম প্রফেশনাল বক্সার হিসেবে আন্তর্জাতিক বেল্ট অর্জন করি ২০২৩ সালে।এই পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে প্রফেশনাল বক্সিংয়ে ১০ টির মধ্যে ৮ টি তেই জয় লাভ করি। প্রফেশনাল বক্সিংয়ের মাধ্যমে দেশকে আরও সামনে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
নানা চড়াই উতরাই পার করে আজকেরএই অবস্থানে আসতে পেরেছি।কিন্তু সরকার কতৃক মনোনীত ক্রীড়া কার্ড প্রদানের তালিকায় আমার নাম আজ পর্যন্ত দেখলাম না।ক্রীড়া কার্ড সবচেয়ে দরকার আমাদের মত পিছিয়ে পড়া গেমসের জন্য।
অনেক গেমসের জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ও এখনো ক্রীড়া কার্ড পায়নি যারা বছরের পর বছর নিরবে দেশের জন্য লড়ে গেছেন। আমি মনে করি টাকা অবশ্যই দরকার কিন্তু টাকার চেয়ে স্বীকৃতি আরও সম্মানের।’
টিজে/টিএ