© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চাঁদপুরে বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে আরেক বন্ধুর মৃত্যু

শেয়ার করুন:
চাঁদপুরে বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে আরেক বন্ধুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:১৭ পিএম | ২০ এপ্রিল, ২০২৬
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামের আবুল হাশেম (৯০) ও বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫) দুই বন্ধুর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। একজন ছিলেন কাঠমিস্ত্রি, আরেকজন মসজিদের মুয়াজ্জিন। একসঙ্গে বসে গল্প করতেন, আবার একসঙ্গেই মৃত ব্যক্তিদের কবর খুঁড়তেন। দুজনের কবর খোঁড়ার সংখ্যা শত ছাড়িয়ে গেছে।

রোববার রাতে একসাথে বসে চা খেয়েছেন, সোমবার (২০ এপ্রিল) একসঙ্গে মসজিদে ফজরের নামাজও পড়েছেন। কিন্তু সকাল বেলা দুই বন্ধুর একজন বাচ্চু পাটওয়ারী বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন।

সংবাদ পেয়ে দ্রুত বন্ধুর দাফনের জন্য অপর বন্ধু আবুল হাশেম কবর খুড়ঁছিলেন। আবুল হাশেমের বন্ধুর জন্য খোঁড়া কবরে নিজেই লুটিয়ে পড়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন। এমনটাই জানিয়েছেন আবুল হাশেমের প্রতিবেশী মুমিন হোসেন পাটওয়ারী, মো. রাসেল হোসেন ও ইব্রাহিম খলিলসহ স্থানীয়রা।

পৌর এলাকার ২ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কেরোয়া ছৈয়াল বাড়ি জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন বলেন, আবার বাবা ও প্রতিবেশী চাচা দুজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। একসঙ্গে সময় কাটাতেন এবং মানুষ মারা গেলে জান্নাতের আশায় দুজনেই বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়ে দিতেন।

আজ সকালে আমার বাবার বন্ধু বাচ্চু পাটওয়ারী চাচা মারা যান। বাবা আবুল হাশেম কিছুক্ষণ কান্না করে, বন্ধুর কবর খুঁড়তে কবরস্থানে চলে যান। আমার জানা মতে, তারা উভয়েই এই অঞ্চলের শতাধিক কবর খুঁড়েছেন। কিন্তু বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়ে তিনি নিজেই কবরের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন। আমার বাবা ও চাচার জন্য দোয়া কামনা করছি।

অন্যদিকে বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী বলেন, আবুল হাশেম চাচাসহ বাচ্চু চাচার কবর খুঁড়ছিলাম। কবর খোঁড়ার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ করেই হাশেম কাকা কবরে শুয়ে পড়েন। পরে তাড়াহুড়া করে ওপরে উঠিয়ে দেখি তিনি মারা গেছেন।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল হোসেন, ইব্রাহিম খলিল সাকিল, আবু তাহেরসহ অনেকেই জানান, দুই বন্ধু ভিন্ন পেশার হলেও তাদের চলাফেরা ছিল একসঙ্গে। তাদের দুজনের এমন মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন