© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পদোন্নতির দাবিতে শাটডাউনের ঘোষণা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের

শেয়ার করুন:
পদোন্নতির দাবিতে শাটডাউনের ঘোষণা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:১৭ এএম | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতির দাবি নিয়ে জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। পদোন্নতির দাবিতে আজ মঙ্গলবার কর্মবিরতি এবং দাবি মানা না হলে কাল বুধবার থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকেরা। গতকাল সোমবার এক জরুরি সভা থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকেরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, উপাচার্য নানা অজুহাতে পদোন্নতি আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তুলছেন। পদোন্নতির দাবিতে ১০ এপ্রিল একটি বোর্ড গঠনের জন্য উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে পাঁচ কার্যদিবসের আলটিমেটাম দেন শিক্ষকেরা। এতেও সাড়া না মিললে ১৯ এপ্রিল থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন। তবে গতকাল তিনি অনশন ভেঙেছেন। তবে গতকালই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষকেরা। গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সিন্ডিকেট কর্তৃক বিধিবিধানের ভিত্তিতে শিক্ষকদের পদোন্নতি হয়ে আসছে। কিন্তু ইউজিসি কর্তৃক জারিকৃত পত্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ, ইউজিসির এই পত্রের দুই মাস আগেই ২৪ জন শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির নিয়োগ বোর্ড, সুপারিশ সম্পন্ন হয়। কিন্তু তা কার্যকর না হওয়ায় আমাদের একজন শিক্ষক এখন আমরণ অনশনে বসেছিলেন।’ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁরা তাঁদের কার্যক্রম চালাতে পারছেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ববি শিক্ষক সমাজ আজ কর্মবিরতি পালন করবেন। এর মধ্যে সংকট নিরসন না হলে তাঁরা পরদিন বুধবার থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউনসহ শিক্ষকেরা যেসব প্রশাসনিক কাজ করে থাকেন, তা-ও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল সকালে এক জরুরি সভা করেন শিক্ষকেরা। সভায় উপস্থিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ও কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হাফিজ আশরাফুল হক। তিনি দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, সভায় ৮৫ জন শিক্ষক ছিলেন। সবার উপস্থিতিতে শিক্ষকেরা একাডেমিক শাটডাউনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

এই শাটডাউনের কারণ হিসেবে হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, তাঁরা দুই বছর ধরে পদোন্নতির আশায় ছুটছেন। তাঁদের পদোন্নতি না হলে অন্যরাও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, গতকালও উপাচার্যের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, তাঁর কিছুই করার নেই।

শিক্ষকদের কর্মসূচি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ‘শিক্ষকেরা পদোন্নতি চাইছেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ওনাদের পদোন্নতি দেওয়ার জন্য সিলেকশন বোর্ড গঠন করি। বোর্ড বসানোর পর ইউজিসি থেকে পত্র দেয়, পদোন্নতির জন্য সরকার কর্তৃক ঘোষিত অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে এবং তাদের যাচাই-বাছাই শেষে পদোন্নতি দিতে পারবে। সে অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার ইউজিসির সঙ্গে সভা করেছি। ওই সভার রেজল্যুশন পেলে সমস্যার সমাধান হবে।’

তবে উপাচার্যের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন শিক্ষকেরা। শিক্ষকদের এই আন্দোলন প্রসঙ্গে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুল কাইউম বলেন, ‘আমাদের আর আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। উপাচার্যের জন্য আমাদের ৬০ জন শিক্ষকের অধিকার ও সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন