© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ থেকে ‘দ্য ড্রামা’: ২০২৬-এর সেরা আট সিনেমা

শেয়ার করুন:
‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ থেকে ‘দ্য ড্রামা’: ২০২৬-এর সেরা আট সিনেমা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১৯ এএম | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
চলতি বছরে সেরা চলচ্চিত্র নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। বিবিসি ফিল্ম ক্রিটিক ক্যারিন জেমস এবং নিকোলাস বারবার-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চলতি বছরের সেরা ৮ সিনেমা, যেখানে একদিকে আছে হৃদয়স্পর্শী সায়েন্স-ফিকশন ব্লকবাস্টার, অন্যদিকে জেনডায়া অভিনীত কমেডি-ড্রামা।

ক্যারিন জেমস এবং নিকোলাস বারবার-এর প্রকাশিত তালিকায় থাকা সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে-



২৮ ইয়ার্স লেটার: দ্য বোন টেম্পল

২০০২ সালে পরিচালক ড্যানি বয়েল এবং চিত্রনাট্যকার অ্যালেক্স গারল্যান্ড '২৮ ডেইজ লেটার'-এর মাধ্যমে ’জম্বি-অ্যাপোক্যালিপস’ ঘরানাটিকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। ২০২৫ সালে '২৮ ইয়ার্স লেটার'-এর মাধ্যমে তারা আবারও একই ম্যাজিক দেখান।

তবে বিস্ময়করভাবে, এই সিক্যুয়েলটি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। নিয়া ডাকোস্টার পরিচালনায় এবং গারল্যান্ডের চিত্রনাট্যে নির্মিত এই ছবিটি যেমন ভীতিজাগানিয়া, তেমনি এটি একটি অনন্য লোক-ভৌতিক (folk-horror) আবহ তৈরি করেছে।

এতে এক দয়ালু পাগল বিজ্ঞানী (র‍্যালফ ফিনস) এবং এক বিশালদেহী নরখাদকের (চি লুইস-প্যারি) অদ্ভুত রসায়ন দেখা যায়। জ্যাক ও'কনেল এখানে এক ভণ্ড কাল্ট লিডারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা দর্শকদের দীর্ঘকাল মনে থাকবে।

মাই ফাদার্স শ্যাডো



১৯৯৩ সালের নাইজেরিয়ার পটভূমিতে নির্মিত পরিচালক একিনোলা ডেভিসের এই চলচ্চিত্রটি অত্যন্ত মার্জিত এবং আবেগঘন। সোপে দিরিসু এখানে একজন বাবার চরিত্রে অসামান্য অভিনয় করেছেন, যিনি তার পরিবারকে সহায়তার জন্য হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেন। একদিন তিনি তার দুই ছোট ছেলেকে নিয়ে লেগোস শহরে যান বকেয়া পাওনা আদায়ের জন্য। সেই ব্যক্তিগত গল্পের আড়ালে পরিচালক তৎকালীন নাইজেরিয়ার উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সামরিক অভ্যুত্থানের চিত্র তুলে ধরেছেন। বাফটা (BAFTA) বিজয়ী এই ছবিটি শিশুদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা একটি গভীর ও হৃদয়বিদারক আখ্যান।

হপার্স



পিক্সার স্টুডিও আবারও তাদের স্বকীয় রূপে ফিরেছে এই অ্যানিমেটেড সিনেমার মাধ্যমে। এর মূল ভাবনা হলো- পশুদের কথা বলা। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র মেবেল (কণ্ঠ দিয়েছেন পাইপার কার্ডা) একজন সাহসী স্কুলছাত্রী, যে তার মস্তিষ্ক একটি রোবোটিক বিভারের সাথে সংযুক্ত করে পশুপাখিদের ভাষা বুঝতে পারে। সে এই শক্তির মাধ্যমে এক দুর্নীতিবাজ মেয়রের (জন হ্যাম) বিরুদ্ধে লড়াই করে। ড্যানিয়েল চং পরিচালিত এই ছবিটি যেমন হাস্যরসে ভরপুর, তেমনি এতে পরিবেশ রক্ষার এক বলিষ্ঠ বার্তা রয়েছে।

উডারিং হাইটস



এমিলি ব্রন্টের ১৮৪৭ সালের ক্লাসিক উপন্যাসের এক নির্ভীক ও আধুনিক রূপায়ন ঘটিয়েছেন পরিচালক এমেরাল্ড ফেনেল। মার্গট রবি এবং জ্যাকব এলর্ডি এখানে ক্যাথি এবং হিথক্লিফ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাদের রসায়ন যেমন রোমান্টিক, তেমনি রূঢ়। ফেনেল প্রচলিত পিরিয়ড ড্রামা থেকে বেরিয়ে এসে এক রঙচঙে ও সাহসী ভিজ্যুয়াল স্টাইল ব্যবহার করেছেন। যদিও এটি মূল উপন্যাসের অনেক অন্ধভক্তদের পছন্দ নাও হতে পারে, কিন্তু এর পরিচালনা এবং আবেগ দর্শকদের মুগ্ধ করবেই।

প্রজেক্ট হেইল মেরি



এটি একটি ভিন্নধর্মী সায়েন্স-ফিকশন ব্লকবাস্টার, যেখানে পেশিশক্তির বদলে বুদ্ধিকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অ্যান্ডি উইয়ারের উপন্যাস অবলম্বনে এবং লর্ড ও মিলার জুটির পরিচালনায় এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রায়ান গোসলিং। একজন স্মৃতিভ্রষ্ট জীববিজ্ঞানী কীভাবে মহাকাশে এক ভিনগ্রহী জীবের সাহায্যে পৃথিবীকে রক্ষার চেষ্টা করেন, তা নিয়েই এই রোমাঞ্চকর সিনেমা। গোসলিং তার চিরচেনা রসবোধ এবং অভিনয়ের মাধ্যমে আড়াই ঘণ্টার এই দীর্ঘ সফরকে অত্যন্ত আনন্দদায়ক করে তুলেছেন।

টু প্রসিকিউটরস



ইউক্রেনীয় পরিচালক সের্গেই লোজনিতসার এই চলচ্চিত্রটি ১৯৩৭ সালের স্তালিনীয় দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে নির্মিত। গল্পের নায়ক কর্নিয়েভ নামের এক তরুণ আইনজীবী, যে একজন রাজবন্দীর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস করার চেষ্টা করে। চলচ্চিত্রটি একটু ধীর গতির কিন্তু শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলার, যা বর্তমান সময়ের একনায়কতন্ত্রের ভয়াবহতাকে মনে করিয়ে দেয়। কাফকা-সদৃশ এই আখ্যানটি একটি স্বৈরশাসনের অধীনে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

ডেড ম্যান’স ওয়্যার




পরিচালক গাস ভ্যান সান্ট এক সত্য ঘটনা অবলম্বনে এই ব্ল্যাক কমেডি থ্রিলারটি নির্মাণ করেছেন। টনি কিরিৎসিস (বিল স্কার্সগার্ড) নামক এক ব্যক্তি তার অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্য দায়ী এক মর্টগেজ ব্রোকারকে অপহরণ করে। এরপর সে একটি রেডিও স্টেশনে ফোন করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পুরো ছবিতে বিল স্কার্সগার্ডের অভিনয় ছিল অনবদ্য। এই ছবিতে আল পাচিনো একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এটি দর্শককে ভাবিয়ে তুলবে যে অপরাধী এবং ভুক্তভোগীর মধ্যে আসলে কার প্রতি সহানুভূতি দেখানো উচিত।

দ্য ড্রামা



জেনডায়া এবং রবার্ট প্যাটিনসন অভিনীত এই রমকম বা রোমান্টিক কমেডি ছবিটি শুরু হয় খুব মিষ্টিভাবে। কিন্তু বিয়ের এক সপ্তাহ আগে যখন পাত্রী জেনডায়া তার হবু স্বামীর কাছে একটি অন্ধকার রহস্য প্রকাশ করেন, তখন ছবির মোড় সম্পূর্ণ বদলে যায়। পরিচালক ক্রিস্টোফার বোরগ্লি এই ছবির মাধ্যমে এক চরম বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন এটি সংবেদনশীল বিষয়কে লঘুভাবে দেখিয়েছে, কিন্তু জেনডায়া ও প্যাটিনসনের শক্তিশালী অভিনয় একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এটি যেমন তারকা-সমৃদ্ধ ছবি, তেমনি আধুনিক সমাজ নিয়ে একটি কঠোর সমালোচনাও বটে।

পিআর/টিকে


মন্তব্য করুন