© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তেহরানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পাকিস্তান!

শেয়ার করুন:
তেহরানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পাকিস্তান!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৩১ পিএম | ২১ এপ্রিল, ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে তেহরানের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পায়নি পাকিস্তান।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কূটনীতি ও সংলাপের পথ প্রশস্ত রাখতে পাকিস্তান সচেষ্ট থাকলেও ইরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই এখন অনেক কিছু নির্ভর করছে। বিশেষ করে দুই সপ্তাহের বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় তেহরানের অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বার্তায় ইরানের সঙ্গে স্থায়ী কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও ইরানি জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তবুও ট্রাম্প একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে চলেছেন।

মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং আমাদের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে। বিরতির এই সময়টাকে আমরা সরঞ্জাম মজুতের কাজে লাগিয়েছি।’ বুধবার শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বৃদ্ধি করার কোনো ইচ্ছা নেই বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

এই সংকটকালীন মুহূর্তে সংঘাত এড়াতে এবং শান্তির পথ সুগম করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষকেই সংলাপের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি মনে করেন, অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা রক্ষায় আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। তবে শান্তি আলোচনায় ফেরার ব্যাপারে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে, যা আলোচনার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নাতালি বেকারের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। বৈঠকে তিনি বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে শান্তি প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, যেকোনো ধরনের আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই শান্তি অর্জনের জন্য সংলাপ ও কূটনীতিই একমাত্র কার্যকর মাধ্যম।


ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন