© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ঐকমত্য কমিশনে গণতন্ত্র কোথায় ছিল? প্রশ্ন সারা হোসেনের

শেয়ার করুন:
ঐকমত্য কমিশনে গণতন্ত্র কোথায় ছিল? প্রশ্ন সারা হোসেনের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:০৫ এএম | ২২ এপ্রিল, ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছিল বলে মনে করেন না সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দায়িত্ব পালন করা বদিউল আলম মজুমদারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেছেন, ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়েছিল ‘সিলেকশনের’ মাধ্যমে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার: সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, আদালতের নির্দেশনা ও জনআকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে কথা বলছিলেন সারা হোসেন। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত এ গোলটেবিল আলোচনায় সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

আলোচনার প্রসঙ্গ ধরে সারা হোসেন বলেন, “অনেক বক্তব্য এসেছে, যেটার সাথে আমার খুবই দ্বিমত আছে, সিরিয়াস দ্বিমত আছে। বারবার যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনারা বলছেন যে জুলাই সনদ আমাদের রাখতেই হবে। যা বলা আছে সব হবে এবং গণভোটকে আমাদের রাখতে হবে। গণভোটের ফলাফল রাখতে হবে… শ্রদ্ধেয় ডক্টর মজুমদার বলেছেন যে এটা একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এসেছে, এটা গণতান্ত্রিক।

“আপনাদের যে ঐকমত্য কমিশন, এটাকে কোনোভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলা যায় না। সিলেক্টিভ প্রসেস, কয়েকজনকে নিয়ে আপনারা বসে ডিসিশন নিয়েছেন। গণতন্ত্র ওখানে কোথায় ছিল? কীসের নির্বাচন? কে এসছে বাইরে থেকে? কে কথা বলতে পেরেছে? কেউ না।”

সারা হোসেন বলেন, “ঐকমত্য কমিশনে একজনও নারী সদস্য ছিলেন না। বিচারব্যবস্থা সংস্কার কমিশনেও কোনো নারী আইনজীবী কিংবা বিচারপতিকে সম্পৃক্ত করা হয়নি।”

গণভোটের তৃতীয় প্রশ্নের বিষয়ে জনগণের কোনো ধারণা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন সারা হোসেন।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে সারা হোসেন বলেন, “আপনারা হাত তুলে আমাকে বলেন, কয়জন বলতে পারবেন ৩০টা প্রস্তাব কী ছিল? আপনারা কিসের জন্য ভোট দিয়েছেন, সেটা আপনারা জানেন বলে আমার মনে হয় না।

“এটা একটা বড় প্রশ্ন, আপনি ভোট দিচ্ছেন, কিসের জন্য দিচ্ছেন? হ্যাঁ/না—এটা জানি। কিন্তু কিসের জন্য ভোট দিচ্ছি, এটা আমি যদি না জানি, তাহলে ভোটের কতদূর মূল্য আছে?”

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ নিয়েও কথা বলেন সারা হোসেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের এ দুটি আইন পুনর্বহাল হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ আমলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে জোর করে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার উদাহরণ টেনে সারা হোসেন বলেন, “এত বছর পার হয়ে গেছে, এটা নিয়ে নাগরিক সমাজ থেকে দাবি ওঠানো হয়নি, এটার সুরাহা হোক। কাদের ভূমিকা সেখানে ছিল, তা জানা যাক।

“জুলাই গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মুখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকদের পদত্যাগ করতে হয়েছে। তাদের দাবির মুখে অনেক বিচারককে হঠাৎ করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের কয়েকজন ছিলেন বেশ দক্ষ।”

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মামলায় রায় দেওয়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে ‘মিথ্যাভাবে’ জুলাই হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সারা হোসেন।

তিনি বলেন, “এতগুলো মাস পার হয়ে গেছে, এখন অবধি কোনো চার্জশিট নাই; যেখানে বলা হচ্ছে যে জাস্টিস খায়রুল হক ওখানে দাঁড়িয়ে গুলি চালিয়েছেন অথবা গুলির নির্দেশনা দিয়েছেন।

“এটা নিয়ে আমরা কি মুখ খুলছি? নাগরিক সমাজ, সুশীল সমাজ, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কিংবা বার সমিতি—কেউ না, সবাই চুপ করে আছি।”

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন। অন্যদের মধ্যে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আইনজীবী ইমরান সিদ্দিকী, ফাহিম মাশরুর বক্তব্য দেন।

ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন