মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশি অভিবাসী আটক
ছবি: সংগৃহীত
০৭:২৪ এএম | ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ৬২ অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলাম ও পুচং এলাকায় ‘অপস মাহির’ নামের সমন্বিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
অভিবাসন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানের লক্ষ্য ছিল উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প ও লজিস্টিক খাতে অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের উপস্থিতি শনাক্ত ও দমন করা। অভিযানে অংশ নেন ৬৬ অভিবাসন কর্মকর্তা। তাদের সঙ্গে সহায়তায় ছিলেন জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের (জেপিএন) আরও ১২ কর্মকর্তা।
এসময় দুটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়, যেখানে মোট ১১২ ব্যক্তিকে যাচাই করা হয়। শেষে ৬২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৫৬ জন বাংলাদেশি, চারজন নেপালি, একজন ভারতীয় ও একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা অন্য কোম্পানির নামে ইস্যুকৃত অস্থায়ী কর্ম ভিসা (পিএলকেএস) ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় গোপন করছিলেন। তারা মূল নিয়োগকর্তার পরিবর্তে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন, যা ভিসা অপব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ। এ ঘটনায় দায়িত্বজ্ঞানহীন নিয়োগকর্তার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু বিদ্যমান অনুমতির শর্ত লঙ্ঘন নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা। এর পেছনে বড় কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আরও তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে প্রধান অভিযোগগুলো আনা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়সীমার বেশি অবস্থান করা এবং পাসপোর্ট ও অনুমতির অপব্যবহার। আটক বিদেশি নাগরিকদের সেমেনিয়াহ ইমিগ্রেশন ডিপো ও কেএলআইএতে রাখা হয়েছে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্রিয়া ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দেশের আইন লঙ্ঘনকারীদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না, তা বিদেশি শ্রমিক হোক কিংবা নিয়োগকর্তা। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসএস/এসএন