© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ফিরছেন হৃদয় খান

শেয়ার করুন:
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ফিরছেন হৃদয় খান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:০৭ পিএম | ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
নিজেকে আড়াল করে রেখেছিলেন অনেক দিন। জানার উপায় ছিল, না কোথায় আছেন, কী করছেন, গানের ভুবনে আবার কবে পা রাখবেন। যদিও ভক্তদের অনেকে জানেন, হৃদয় খান কিছুটা অর্ন্তমুখী স্বভাবের। নিভৃতে নিজের মতো করে কাজ করে যান। আত্মপ্রচারে আগ্রহ নেই। নিজ সৃষ্টি নিয়ে কেউ প্রশ্ন করলেই তার জবাব দেন। তাই হৃদয় খান যখন নিজ থেকে ঘোষণা দিলেন, বিরতি ভেঙে নতুন আয়োজন তুলে ধরতে যাচ্ছেন, তখন অনুরাগীরা মুখের হাসি প্রসারিত হতে এতটুকু সময় লাগেনি।

শুধু তাই নয়, যখন নন্দিত এই শিল্পী ও সংগীতায়োজক স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর নতুন গান ‘হাহাকার’-এ চিরচেনা হৃদয় খানকে আবারও খুঁজে পাওয়া যাবে, তখন থেকে শুরু হয়ে গেছে দিন গণনা পর্ব। কবে? কখন? কোন মাধ্যমে ‘হাহাকার’ গানটি প্রকাশ পাবে? এমন অসংখ্য প্রশ্নের ডালা সাজিয়ে বসেছেন। আশার কথা হলো, প্রিয় শিল্পীর কাঙ্ক্ষিত আয়োজনের জন্য ভক্তদের অপেক্ষা আর মাত্র এক দিনের। আগামীকাল শিল্পীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পাচ্ছে ‘হাহাকার’ গানটি। যার কথা লিখেছেন এ সময়ের আলোচিত গীতিকবি সোমেশ্বর অলি। সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন শিল্পী হৃদয় খান নিজে।



একই সঙ্গে আলী আফরোজ অর্ণবের সিনেমাটোগ্রাফিতে ভিডিও পরিচালনাও করেছেন তিনি। এক ভিডিওবার্তায় এই তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন গানের সাউন্ড স্যাম্পল শুনিয়েছেন হৃদয়। সেই সঙ্গে এও জানিয়ে দিয়েছেন, কেন সংগীতায়োজনে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম দিককার শব্দ সংযোজনা তুলে ধরা।

এ নিয়ে হৃদয় বলেছেন, ‘কয়েক বছর গানের বিষয়ে খুব একটা মনোযোগী ছিলাম না। কিন্তু খেয়াল করলাম, গান প্রকাশে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারলেও শ্রোতাদের প্রত্যাশা এতটুকু কমেনি। বারবার আবদার আসছিল নতুন গানের, তারা চিরচেনা সেই হৃদয় খানকে খুঁজে পাবেন। তাদের সেই চাওয়া থেকেই ‘হাহাকার’ গানটি তৈরি করা। চেষ্টা করেছি, গানের সেই মেলোডিকে তুলে নিয়ে আসার, যা আমাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে। আশা করছি, নতুন এই গানটি অনেকের প্রত্যাশা পূরণ করবে।’

ব্যস, এটুকু তথ্য তুলে ধরার পরপরই ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে হইচই শুরু হয়ে গেছে। গানের অংশবিশেষ শুনেই অনেকে নিজ নিজ মত প্রকাশ করে যাচ্ছেন সামাজিক মাধ্যমে। তাদের দাবি, ‘হাহাকার’ শুধু হৃদয় খানের চিরচেনা অবয়বই তুলে আনছে না, একই সঙ্গে জানান দিতে চলেছে, এই শিল্পী ও সংগীতায়োজক আর দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।’ এখন তাই দেখার অপেক্ষা শ্রোতাদের প্রত্যাশা পূরণের মধ্য দিয়ে হৃদয়ের নতুন অধ্যায়ের পথ-পরিক্রমা কতটা দীর্ঘ হয়।

হৃদয় খান শুধু যে নিজের জন্য গান তৈরি করে চলেছেন- বিষয়টি এমনও নয়, নতুন ও তারকাশিল্পীদের জন্য নানা ধরনের গানের সুর-সংগীতায়োজন করে যাচ্ছেন তিনি। এই যেমন কদিন আগে তিনি আরেক তারকাশিল্পী ইমরান মাহমুদুলের জন্য একটি গান তৈরি করেছেন; যা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনাও শোনা যাচ্ছে চারদিকে। কারণ এই প্রথম হৃদয়ের সুরে কোনো গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ইমরান। রবিউল ইসলাম জীবনের লেখা গানটির শিরোনাম ‘ফিরে এলে না’; যা শিগগিরই প্রকাশ পাবে। এমন আরও কিছু চমক থাকছে আগামী দিনগুলোয়, যার আভাসও দিয়ে রেখেছেন হৃদয় নিজে। তবে এখনই সবকিছু খোলাসা করতে চান না। শুধু বলেছেন, ‘অপেক্ষায় থাকুন, একে একে সব আয়োজনের ঘোষণাই আসবে।’

আসলে হৃদয় এমনই, যতক্ষণ না তাঁর কোনো কাজ পরিকল্পনামাফিক শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ সেসব নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ। এর প্রমাণ মিলেছে বহুবার। যেমন তাঁর প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার কথা যদি বলি, ‘ট্র্যাপড’ সেই সিনেমাটি প্রকাশ করার জন্য সময় নিয়েছেন দীর্ঘ ছয় বছর! এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার জন্য এতটা সময় নেওয়ার কারণ কী? কারণ একটাই, গানের মতো নিজের এই সিনেমাটিও নিখুঁত করে তোলার প্রয়াসেই এতটা সময় নেওয়া। কিছুদিন আগে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ‘ট্র্যাপড’ মুক্তি দিয়েছেন হৃদয়।

এই সিনেমা মুক্তির আগে তিনি জানিয়েছিলেন, স্বল্পদৈর্ঘ্য হলেও বাণিজ্যিক ধারার পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার আমেজ খুঁজে পাওয়া যাবে ‘ট্র্যাপড’-এ। কারণ গল্পই এই সিনেমার প্রাণ, যেখানে দেখা যাবে, কীভাবে হৃদয় নামে এক তরুণ নিজের অজান্তেই মাদক চক্রের ফাঁদে পড়ে যায়। এরপর নিরাশার দোলাচালে হৃদয় যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই তাঁর জীবনে আসে মোনা নামের এক তরুণী। যে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখায় হৃদয়কে। কিন্তু হৃদয়ের স্বপ্ন বুনন শুরু হতে না হতেই আকস্মিকভাবে খুন হন মোনা।

এরপর আবারও এলোমেলো হয়ে যেতে থাকে হৃদয়ের জীবন। কিন্তু এবার সমস্ত হতাশা ছুড়ে ফেলে সে হয়ে ওঠে প্রতিশোধপরায়ণ। এরপর গল্প মোড় নেয় ভিন্ন দিকে। আর এমনই এক গল্প নিয়ে নির্মিত ‘ট্র্যাপড’ সিনেমার মাধ্যমে সূচনা হয়েছে হৃদয় খানের ক্যারিয়ারের আরেকটি অধ্যায়। যেখানে একই সঙ্গে তিনি চিত্রনাট্যকার, নির্মাতা, অভিনেতা ও সংগীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বাসঘাতকতা, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘ট্র্যাপড’-এ তাঁর সহশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন মডেল ও অভিনেত্রী মোনালিসা ও প্রবাসী কয়েকজন শিল্পী।
এই যে হৃদয়ের কাছে পাওয়া তথ্য, তা কি আদৌ তাঁর কথার সঙ্গে মিলে গেছে? সে উত্তর পাওয়া যাবে ‘ট্র্যাপড’ সিনেমাটি দেখার পর। আমাদের ধারণা, সিনেমাটি দেখে দর্শকের অনেকেই স্বীকার করবেন, হৃদয় তাঁর এই কাজটি নিয়ে এতটুকু বাড়িয়ে বলেননি। এক কথা হলো, কণ্ঠশিল্পী, সংগীতায়োজকের পর অভিনেতা ও নির্মাতার পরিচয়ও হৃদয় ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ?

এর জবাবে হৃদয় বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। তবে এ কথা স্বীকার করতে হবে যে, শিল্পীমনে যে ক্ষুধা, তা কেবল সংগীত সৃষ্টির মধ্য দিয়ে পূরণ হচ্ছিল না বলেই নির্মাণে আসা। অনেকদিন ধরে মন চাইছিল আরও কিছু করতে। তাই মনের ভেতর লালন করা গল্পটা চিত্রায়ণের মধ্য দিয়ে দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে চেয়েছি। তাই নির্মাতা হিসেবে সাফল্য বা ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ কষতে বসিনি কখনও। আগামীর দিনগুলোয় আরও নতুন কোনো পরিচয় তুলে ধরব কিনা, তা নিয়ে কিছু ভাবিনি। তবে যা সব সময় করতে চাই, তা হলো সংগীত সৃষ্টির মধ্য দিয়ে শ্রোতামনে কড়া নেড়ে যাওয়া। তাই অনেক কিছুর পর আমার কাছে শিল্পী ও সংগীতস্রষ্টার পরিচয়ই মুখ্য।’ 

এসএ/টিকে

মন্তব্য করুন