© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অস্কারের ২৪ দিন পরই চলে গেলেন সত্যজিৎ রায়

শেয়ার করুন:
অস্কারের ২৪ দিন পরই চলে গেলেন সত্যজিৎ রায়

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫৭ পিএম | ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
অস্কারজয়ী বাঙালি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়কে হারানোর দিন আজ। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল আজকের দিনে ৭০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান গুণী এ ব্যক্তিত্ব। অস্কার জয়ের মাত্র ২৪ দিন পর মারা যান তিনি।

সত্যজিৎ রায়ের কথা আসলেই স্মৃতিতে আসে কাশফুলের বনের ভেতর দিয়ে ঝকঝক শব্দে ছুটে চলা রেলগাড়ি, অপু আর দুর্গার সেই বিস্ময় মাখা দৌড়, বাংলার রূপ, সমাজ আর পুরো ভারতবর্ষের পরিচয়।

কালজয়ী এ নির্মাতার জন্ম ১৯২১ সালে কলকাতার এক সংস্কৃতিমনা পরিবারে। বাবা সুকুমার রায় আর মা সুপ্রভা দেবীর নান্দনিক বোধ তার রক্তে মিশে ছিল। পৈতৃক ভিটা বর্তমান বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের মসুয়ায়।

শিক্ষাজীবনে শান্তিনিকেতনে চারুকলার পাঠ আর বিলেতে গিয়ে দেখা ‘দ্য বাইসাইকেল থিফ’—এই দুই অভিজ্ঞতাই তাকে শিখিয়েছিল ভিন্ন এক চোখে গভীর জীবন দর্শন।

সাত বছরের ভাবনা ও প্রচেষ্টায় তিনি নির্মাণ করেন ‘পথের পাঁচালী’। প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে এ সিনেমা টালিউডে তৈরি করে নতুন শিল্পরীতি। সিনেমোর সিক্যুয়াল ‘অপু ট্রিলজি’র মাধ্যমে মানবিকতার যে জয়গান তিনি গেয়েছিলেন, তা আজও বিশ্বে অতুলনীয়।

তার সিনেমা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে সমাজ ও মনস্তত্ত্বের এক গভীর পাঠ। তাই আকিরা কুরোসাওয়ার বলেছিলেন, ‘সত্যজিতের সিনেমা না দেখা মানে পৃথিবীতে থেকেও সূর্য বা চাঁদের অস্তিত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা।’

সত্যজিতের সিনেমায় শুধু গ্রামীণ জীবন প্রতিফলিত হয়নি, সমাজের নানা সমস্যাও তিনি তার সিনেমাতে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। ‘দেবী’তে তিনি দেখিয়েছেন কুসংস্কারের অসারতা,‘মহানগর’ থেকে ‘জনঅরণ্য’-তে তিনি তুলে ধরেছেন মধ্যবিত্তের টানাপোড়েন আর শহুরে জীবনের ধূসর বাস্তবতা।

বড়দের জন্য কালজয়ী সিনেমা নির্মাণের পাশাপাশি ছোটদের শৈশবকেও রাঙিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তার অমর সৃষ্টি ‘ফেলুদা’ আর ‘প্রোফেসর শঙ্কু’ আজও বাঙালির কল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।



‘হীরক রাজার দেশে’র মতো সিনেমায় তিনি রূপকের আড়ালে গেয়েছেন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের গান। জীবনের অন্তিম লগ্নে ‘গণশত্রু’, ‘শাখাপ্রশাখা’ ও ‘আগন্তুক’-এর মতো সংলাপ-নির্ভর সিনেমাতেও তিনি তুলে ধরেছেন আধুনিক সভ্যতার সংকট।

গুণী এ নির্মাতার চলে যাওয়ার তিন দশকের বেশি পেরিয়ে গেলেও চলচ্চিত্র নির্মাণের দুনিয়ায় আজও নির্মাতাদের ব্যাকরণ হয়ে রয়েছে সত্যজিতের পাণ্ডুলিপি। আলো-ছায়ার সূক্ষ্ম কাজ আর পরিমিতিবোধের যে শিক্ষা তিনি দিয়ে গেছেন, তা আজও হয়ে আছে বিশ্ব চলচ্চিত্রের পরম সম্পদ।

সিনেমায় অনবদ্য ভূমিকার জন্য ১৯৯২ সালে ৩০ মার্চ অ্যাকাডেমি অফ মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস (অস্কার) তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করে। কিন্তু ৬৪তম সে আসরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে লস অ্যাঞ্জেলেসে যেতে পারেননি তিনি। তবে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে অস্কার জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন।

প্রথম ভারতীয় এবং বাঙালি চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে বিশ্বখ্যাত অস্কার পুরস্কার অর্জনের ২৪ দিন পর ২৩ এপ্রিল না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কিংবদন্তি এ নির্মাতা।

এসএ/টিকে

মন্তব্য করুন