© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ধনী দেশের তালিকায় শীর্ষ দশে ঠাঁই হলো না যুক্তরাষ্ট্রের

শেয়ার করুন:
ধনী দেশের তালিকায় শীর্ষ দশে ঠাঁই হলো না যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:০৪ এএম | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
কোন দেশ আসলে সত্যিকার অর্থে কতটা ধনী, তার প্রচলিত হিসাব অনেক সময়ই বিভ্রান্তিকর হতে পারে। একটি দেশের আয়, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এবং সেই সম্পদ কীভাবে মানুষের জীবনমান, সামাজিক বন্ধন ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে ভূমিকা রাখে- এই বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে নতুন একটি ‘সমৃদ্ধি সূচক’ তৈরি করেছে আর্থিক সেবা বিশ্লেষণকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হ্যালোসেফ’। চলতি বছরে এই সূচকের শীর্ষ দশে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি বা ফ্রান্সের মতো কোনো পরাশক্তির নাম নেই। এই তালিকায় ইউরোপের দেশগুলোই রাজত্ব করছে। শীর্ষস্থান লাভ করেছে নরওয়ে।

একটি ‘ধনী দেশ’ বলতে আসলে কী বোঝায়, তা মূলত নির্ভর করে কীভাবে সমৃদ্ধি মাপা হচ্ছে এবং কারা সেই সম্পদের সুফল পাচ্ছে তার ওপর। ‘হ্যালোসেফ’-এর এই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশ হওয়ার অর্থ শুধু বিপুল পরিমাণ উৎপাদন করা নয় বরং ওই সম্পদ একজন সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনে কতটা কাজে লাগছে, তা দিয়ে এটি মাপা হয়। আর ২০২৬ সালের হিসাবে এই মাপকাঠিতে সেরা দেশ হলো নরওয়ে।

হ্যালোসেফ বলছে, শুধু মাথাপিছু জিডিপি দিয়ে তুলনা করলে সঠিক চিত্র পাওয়া যায় না। কারণ এই হিসাবে ধরে নেওয়া হয় যে জাতীয় উৎপাদন দেশের সব মানুষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হচ্ছে, যা বাস্তবে হয় না। আয়ারল্যান্ড এর একটি বড় উদাহরণ। ক্রয়ক্ষমতার দিক থেকে দেশটির মাথাপিছু জিডিপি প্রায় দেড় লাখ ডলার। তবে এর বড় অংশই আসে অ্যাপল, গুগল ও ফাইজারের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কারণে।

এই সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে হ্যালোসেফের ‘প্রসপারিটি ইনডেক্স’ বা সমৃদ্ধি সূচকে ১০০ স্কোরের ভিত্তিতে ৫০টির বেশি দেশকে র‌্যাঙ্কিং করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, ইউএনডিপি, ইউরোস্ট্যাট এবং ওইসিডির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। এতে মানুষের আয়, বৈষম্য এবং বিস্তৃত সামাজিক সূচকগুলোকে একত্রিত করে সমৃদ্ধি মাপা হয়েছে। এই মাপকাঠিতে তালিকার শীর্ষে রয়েছে ইউরোপ।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী পাঁচটি দেশই এই অঞ্চলের। তালিকায় শীর্ষস্থানটি দখল করেছে নরওয়ে। জিডিপির ফুলে-ফেঁপে ওঠা হিসাব বাদ দিলেও প্রকৃত আয়ের দিক থেকে ভালো অবস্থানে থাকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আয়ারল্যান্ড। অন্যদিকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লুক্সেমবার্গ। আরও বলা হয়েছে, এই দেশগুলোতে শক্তিশালী অর্থনীতির পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম সেরা সামাজিক সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে। তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে আইসল্যান্ড। শক্তিশালী মানব উন্নয়ন সূচক এবং দারিদ্র্যের হার কম হওয়ায় তারা এই অবস্থানে এসেছে। বিপরীতে সিঙ্গাপুরের মানুষের আয় অনেক বেশি হলেও বৈষম্য বেশি হওয়ায় তারা পিছিয়ে পড়েছে।

 তালিকায় ২০তম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। তারা চেক প্রজাতন্ত্রের ঠিক পেছনেই আছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নিচের দিকে রয়েছে ইতালি, স্পেন ও এস্তোনিয়ার মতো দেশ। মানুষের আয় কম হওয়া এবং স্পেনের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের হার বেশি হওয়ায় তাদের স্কোর খুব বেশি ওঠেনি। যুক্তরাষ্ট্র এই তালিকায় ১৭তম স্থানে রয়েছে। শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হলেও উচ্চবৈষম্য এবং আপেক্ষিক দারিদ্র্যের কারণেই তাদের এই অবস্থান। আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে সেশেলস। এরপরই আছে মরিশাস ও আলজেরিয়া। দক্ষিণ আমেরিকায় প্রথমবারের মতো তালিকার শীর্ষে উঠেছে উরুগুয়ে। ওই অঞ্চলে তাদের দারিদ্র্য সবচেয়ে কম এবং আয়ের বণ্টন সবচেয়ে সমান। এরপরেই রয়েছে চিলি ও পানামা।

এশিয়া মহাদেশে শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। তাদের ঠিক পেছনেই আছে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই ফলাফলগুলো এই ইঙ্গিত দেয় যে বৈশ্বিক সমৃদ্ধির হিসাবে এখনও ইউরোপের আধিপত্য রয়েছে। তবে বৈষম্য এবং সামাজিক সুবিধাগুলো হিসাবে ধরলে বিশ্বের প্রচলিত চিত্র অনেকটাই পাল্টে যায়। উপাত্ত বলছে, একটি দেশ কতটা ‘ধনী’, তা এখন আর শুধু উৎপাদন দিয়ে মাপা হয় না বরং সেই সম্পদ মানুষের মাঝে কতটা সমানভাবে ভাগ করা হচ্ছে, সেটাই এখন আসল পরিচয়।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন