ইউরোপের ২ দেশকে শাস্তি দেওয়ার কথা ভাবছেন ট্রাম্প!
ছবি: সংগৃহীত
০৭:২৬ এএম | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
ইউরোপের দুই দেশকে শাস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত ইরান যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পেয়ে ব্রিটেন ও স্পেনকে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে এই ‘শাস্তি’ দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।
শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো পেন্টাগনের আন্ডার সেক্রেটারি অব ডিফেন্স এলব্রিজ কোলবির এক গোপন ইমেইলের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধে অসহযোগিতার কারণে তারা ন্যাটো মিত্রদের- বিশেষ করে স্পেন এবং যুক্তরাজ্যকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার বিভিন্ন উপায় পর্যালোচনা করছে।
ফাঁস হওয়া ইমেইলে ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা না করায় ন্যাটো মিত্র, বিশেষ করে স্পেন ও যুক্তরাজ্যকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে স্পেনকে ন্যাটো থেকে বের করা, ফকল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং অসহযোগী দেশগুলোর সামরিক সুবিধা কমানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদিও এগুলো পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে, কিন্তু এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি নীতি হিসেবে গৃহীত হয়নি।
শাস্তি দেওয়ার তালিকায় অন্যতম দেশ যুক্তরাজ্য। দেশটিকে সহযোগিতা না করার তালিকায় রাখা হয়েছে। রয়টার্সের দাবি অনুযায়ী, শাস্তি দিতে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর ব্রিটেনের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার মালিকানার দাবিকে সমর্থনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করছে।
এছাড়া ন্যাটো থেকে স্পেনকে বের করার চেষ্টার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। দেশটি থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে পোল্যান্ড বা রোমানিয়ার মতো মিত্র দেশগুলোতে মোতায়েনের পরিকল্পনাও ভাবা হচ্ছে।
ট্রাম্পের মতে, এই দেশগুলো ইরানে বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে এবং সংকটের সময় ন্যাটোর কোনো কার্যকর ভূমিকা ছিল না।
পেন্টাগন স্পষ্ট করেছে, তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এমন কিছু কার্যকর বিকল্প দিতে চায় যাতে মিত্র দেশগুলো আর কেবল ‘কাগুজে বাঘ’ হয়ে না থাকে এবং নিজেদের দায়িত্ব পালন করে।
তবে পেন্টাগন এটিও উল্লেখ করেছে, ইমেইলের বিষয়গুলো বর্তমানে ‘অভ্যন্তরীণ আলোচনা’ পর্যায়ে রয়েছে এবং এগুলো এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি নীতি হিসেবে কার্যকর হয়নি।
পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ন্যাটো মিত্রদের জন্য সবকিছু করা সত্ত্বেও তারা আমাদের পাশে ছিল না। প্রেসিডেন্ট যেন এটা নিশ্চিত করতে পারেন যে, আমাদের মিত্ররা আর কেবল কাগুজে বাঘ হয়ে থাকবে না বরং নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে। সেজন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ভরযোগ্য বিকল্পগুলো নিশ্চিত করবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এমন পরিকল্পনা বিরোধিতা করে স্পেন ও যুক্তরাজ্য উভয় দেশই তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। তারা মার্কিন চাপের মুখে নতি স্বীকার না করার বিষয়ে অনড় অবস্থান ব্যক্ত করেছে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যুদ্ধের জন্য স্পেনের অবস্থান হলো- না।’ তিনি অতীতের ভুল (ইরাক যুদ্ধ) থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
স্পেন স্পষ্ট করেছে, তারা অন্য কোনো দেশের ‘দাসে’ পরিণত হবে না এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেবে।
ট্রাম্পের বাণিজ্য বন্ধের হুমকির জবাবে স্পেন জানিয়েছে, ইইউ- এর সাধারণ বাণিজ্য নীতি অনুযায়ী যেকোনো এক দেশের ওপর আঘাত পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য হবে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর ব্রিটিশ মালিকানার বিষয়ে তাদের অবস্থান দীর্ঘদিনের এবং এটি অপরিবর্তিত থাকবে। দ্বীপপুঞ্জটি যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বলে তারা জোর দিয়ে বলেছে।
ট্রাম্পের এই হুমকিকে ফকল্যান্ড যুদ্ধের বীরদের প্রতি এক ধরণের ‘অসম্মান’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং ব্রিটিশ কর্মকর্তারা বিষয়টিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এসকে/টিএ