© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে বাঁচতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জরুরি: আবু হেনা রাজ্জাকী

শেয়ার করুন:
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে বাঁচতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জরুরি: আবু হেনা রাজ্জাকী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:৫৪ পিএম | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো খারাপ সংস্কৃতি থেকে বাঁচতে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) ‘জুলাই চার্টার এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী সাংবিধানিক ব্যবস্থা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেন্টার ফর ল’ গভর্নেন্স অ্যান্ড পলিসি (সেলগ্যাপ), সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড লিগ্যাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস স্টাডিজ (সেইলস) এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের আইন ও মানবাধিকার বিভাগের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক।

সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের প্রতি গুরুত্বারোপ করে আবু হেনা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে সংসদ ভেঙে দিলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হলো সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে।

সাংবিধানিক শূন্যতা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন, পরবর্তী সময়ে নির্বাচন এবং গণভোট সবকিছুই রাষ্ট্রপতির আদেশে হয়েছে। সংবিধানের ১৫২ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ একটি আইন।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের মাধ্যমে নিজেদের মত দিয়েছেন দেশের বেশিরভাগ মানুষ। কিন্তু তা নিয়ে টালবাহানা চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো খারাপ সংস্কৃতি আর ফিরে আসবে না। তাই এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বাঁচতে হলে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন খুবই জরুরি।

জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থান-পরবর্তী সাংবিধানিক কাঠামো বিষয়ে বিচারপতি মতিন বলেন, যখন কোনো সরকার জনগণের অধিকার ধ্বংস করে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠে, যেমনটি শেখ হাসিনার শাসনামলে ঘটেছে; তখন জনগণ তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে সরকার বিলুপ্ত করে নতুন সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারে। আর এজন্যই জুলাই সনদ হলো অভ্যুত্থানের একটি ফসল। অন্তর্বর্তী সরকার গঠন ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্কার এ ক্ষমতার আওতায় সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া এসব সংস্কারের ওপর গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ সম্মতি দেওয়ায় এটি একটি বাধ্যতামূলক সাংবিধানিক দলিলে পরিণত হয়েছে।

ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক বলেন, জুলাই চার্টার ৩০টি রাজনৈতিক দল ও অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে গঠিত একটি ঐকমত্যের দলিল, যা গণভোটে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের সমর্থন পেয়ে সরাসরি জনমতের বৈধতা অর্জন করেছে। এটি প্রচলিত সাংবিধানিক কাঠামোর কোনো সাধারণ আদেশ নয়। বরং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের মৌলিক ক্ষমতার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠা বাস্তবতায় কিছু পদক্ষেপ প্রচলিত সংবিধানের বাইরে গেলেও তা জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা উচিত। ফলে জুলাই চার্টার, গণভোট এবং সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনগুলো বাংলাদেশের অলিখিত সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই বিবেচিত হবে।



ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন