© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কাজের মানে কোনো কম্প্রোমাইজ নয় : ডিএনসিসি প্রশাসক

শেয়ার করুন:
কাজের মানে কোনো কম্প্রোমাইজ নয় : ডিএনসিসি প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:২৭ পিএম | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘টেন্ডারে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেকটি কাজে সেসব শর্তসমূহ যথাযথভাবে মেনে কাজ করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে। চলমান সব কাজের মান নিশ্চিত করতে আমাদের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করবেন, প্রয়োজনে আমি নিজেও আসব। কাজের মান নিয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ চলবে না। এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স।


শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে মিরপুরে ৫ নম্বর ওয়ার্ড ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পৃথক দুটি প্রকল্পের সড়ক ও ড্রেনেজ লাইন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘বাউনিয়া বাঁধের এই এলাকায় যারা বাস্তুহারা হয়েছেন, আপনাদের জমির মালিকানা বা কাগজপত্র সংক্রান্ত যে দাবি রয়েছে, আমরা তা দ্রুত পূরণের জন্য কাজ করছি।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা শ্মশানের জন্য জায়গার দাবি জানিয়েছেন।

কোথায় শ্মশান করা হলে ভালো হবে, আপনারা জায়গা নির্ধারণ করে দেখিয়ে দিন- আমরা দ্রুত সেখানে শ্মশানঘাট নির্মাণ করে দেব।’ এলাকাবাসীর পানির সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকার মানুষের পানির খুব সমস্যা হচ্ছে-আমি বিষয়টি জানি। এই সমস্যা সমাধানের জন্য পানির পাম্প নির্মাণ করে দেওয়া হবে।’

গ্যাস সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের আরেকটি সমস্যা আছে-গ্যাসের সমস্যা। এই সমস্যা রাতারাতি সমাধান হবে না। আপনারা ধৈর্য ধরবেন। আমরা ধাপে ধাপে এই সমস্যারও সমাধান করব।’

মিরপুরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সেকশন-১১, বাঁউনিয়াবাঁধ এলাকার ব্লক-এ হতে ব্লক-ই (২৬০০ বাস্তুহারা পরিবারের পুনর্বাসন প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত) পর্যন্ত বিভিন্ন বাইলেনের নর্দমা নির্মাণসহ সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘আমার-আপনার টাকায় এই কাজ হচ্ছে, আপনারা এই কাজে সহযোগিতা করবেন। ঠিকাদার যেন নির্বিঘ্নে কাজ শেষ করতে পারে, সেজন্য সবাই সহযোগিতা করবেন।

কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা খোঁজ রাখবেন, মনিটরিং করবেন।’ এ সময় বাঁউনিয়াবাঁধ এলাকায় ট্রাক স্ট্যান্ডে নির্ধারিত স্থানের বাইরে ট্রাক পার্কিং করা যাবে না-উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যার গাড়িই হোক, মেইন রোডে কোনো অবস্থাতেই রাখা যাবে না। মেইন রোডে গাড়ি রাখলে নাম্বার প্লেট দেখে দেখে জরিমানা করা হবে।’

এ প্রকল্পের আওতায় মোট ৭.৮৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক উন্নয়ন এবং সমপরিমাণ নর্দমার লাইন নির্মাণ করা হবে। এতে ১০৫০ মি.মি. ও ১৫২৪ মি.মি. ব্যাসের আরসিসি পাইপলাইন স্থাপন করা হবে।

পরবর্তীতে পৃথক আরেকটি অনুষ্ঠানে ৩ নং ওয়ার্ডের মিরপুর সেকশন-১০, ব্লক-সি, রোড নং-২, ১৩ ও ১৬ এবং ব্লক-বি, রোড নং-১৯ (হোল্ডিং নং-১ হতে হোল্ডিং নং-৬ পর্যন্ত) এলাকায় আরসিসি পাইপ নির্মাণসহ ফুটপাত ও রাস্তা উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা দ্রুততার সঙ্গে প্রকল্প অনুমোদন করেছি এবং অনুমোদনের পরপরই কাজ শুরু করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে রাখো, জনগণের সঙ্গে থাকো।’ এই স্লোগানকে ধারণ করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।” এ কাজের আওতায় ৩৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়ক উন্নয়ন এবং সমপরিমাণ ৩৩০ মিটার পাইপ নর্দমা নির্মাণ করা হবে। এতে ১০৫০ মি.মি. ব্যাসের আরসিসি পাইপলাইন স্থাপন করা হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন