শিক্ষকের মতো থাকেন, না হলে কান বরাবর পড়বে: অধ্যাপককে ছাত্রদল নেতার হুমকি
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫৭ পিএম | ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম কনককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রাবি শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ছাত্র উপদেষ্টার একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে ওই নেতা লিখেছেন, ‘শিক্ষক শিক্ষকের মতো থাকেন, না হলে কান বরাবর পড়বে।’শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই মন্তব্যের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম শরিফুল ইসলাম।
তিনি রাবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি বগুড়া জেলায়। অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। শুক্রবার ড. আমিরুল ইসলাম কনক নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ‘কনক পিকে’ থেকে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘শকুনিমুক্ত করতে দেড় হাজার প্রাণ ঝরল, ত্রিশ হাজার আহত হলো।
কারো নেই জীবন গড়ার পরিকল্পনা। চলছে নেড়িকুত্তা আর শূকরের কামড়াকামড়ি।’ এই পোস্টের কমেন্ট বক্সে ছাত্রদল নেতা শরীফুল ইসলাম লেখেন, ‘শিক্ষক শিক্ষকের মতো থাকেন, না হলে কান বরাবর পড়বে।’মন্তব্যটি মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
অনেক শিক্ষার্থী এ ধরনের মন্তব্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি তোলেন। এ বিষয়ে রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক ইমরান লস্কর বলেন, ‘কনক স্যার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অগ্রসরমান নায়ক। অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে; ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে যার অবস্থান সদা অবিচল সে মানুষটাকে আজ সরকারি ক্ষমতাধর পাতিনেতাগুলো প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। এরাই আবার স্কুলশিক্ষককে জুতাপেটা করছে। আশ্চর্য! এমন দিনও দেখতে হচ্ছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে ছাত্র উপদেষ্টা ড. আমিরুল ইসলাম কনক বলেন, ‘পোস্টটি আমি ডিলিট করে দিয়েছি। কারণ আমি তো তাকে চিনি না বা জানি না কোনো সংগঠন করে কি না। সে আচমকা এমন একটা মন্তব্য করল! পরে শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে পোস্টটি সরিয়ে নিয়েছি।’
এই ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তো তাকে চিনি না। সে কমেন্ট করার পরে আবার কিছুটা পরিবর্তন করেছে। পরে দেখলাম সে মিথ্যা কথা বলে অভ্যস্ত এবং ন্যূনতম ভদ্রতার মাপ নেই। আর আমি কাল সারা দিন ব্যস্ত ছিলাম। তার সঙ্গে আমার একটু কথা হলে ভালো হতো। এভাবে ব্যক্তি আক্রমন করার কোনো কারণ থাকতে পারে। আজ ক্যাম্পাসে যে সময়টুকু ছিলাম, তার সঙ্গে দেখাও হয়নি। পরে চিন্তা করলাম বিষয়টা খুবই সিলি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ রকম একটা অস্বস্তিকর বিষয়। আমি খুবই বিরক্ত হয়েছি। কোনো ছাত্র কখনো অন্তত আমার সঙ্গে এরকম ভাষা ব্যবহার করবে না, আমার একটা বিশ্বাস ছিল। এখন সে আদৌ ছাত্র কিনা, তার পরিচয়টাও জানতাম না। পরে এখন শুনছি সে একটা ছাত্রসংগঠন করে।’
নিজের মন্তব্যটি করা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি প্রথমে ওনার পোস্টে মন্তব্য করেছিলাম, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন একের পর এক মব হচ্ছিল তখন প্রশাসনে বসে কি করছিলেন।’ উনি রিপ্লাইয়ে মন্তব্য করেন, ‘তোর মতো ভেড়াকে ঘাস খাওয়াচ্ছি।’ এরপর আমি আমার ওই মন্তব্যটি করেছিলাম। এরপর উনি আমাকে ব্লক করে দিয়ে নিজের কমেন্টটা ডিলিট করে দিয়ে আমার কমেন্টগুলো রেখে ফ্রেমিং করা শুরু করে।”
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বিভাগে টগর মো. সালেহ নামে একজন ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়, তখনই ছাত্রলীগের এসব নেতাকে আমার পেছনে লেলিয়ে দিয়েছিলেন উনি। যেহেতু আমি হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিলাম, আমাকে ধরে নিয়ে বঙ্গবন্ধু হলের ২৩৭ নাম্বার কক্ষে নির্যাতন করে। বিপ্লব নামের একজন ছিল। তাকেও আমার পেছনে লেলিয়ে দেন।’
এ ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘রাবি ছাত্রলীগের বর্তমান সেক্রেটারি গালিবের সঙ্গে তো ওনার মাখামাখি সম্পর্ক। সব মিলিয়ে তার ডাবল স্ট্যান্ডার্ড অবস্থান। উনি আমার বিশ্ববিদ্যালয় লাইফটা জাহান্নাম করে ফেলেছিলেন। এর পরও আমি আমার কথাটা জাস্টিফাই করছি না। আমার মন্তব্যটি সঠিক হয়েছে বলে মনে করছি না।’
এসএস/টিকে