ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির প্রার্থী মাধবী মারমার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক চন্দ্রা চাকমা। রবিবার রাজধানীতে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বরাবর তিনি এই আপিল করেন।
আপিল আবেদন জমা দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি চন্দ্রা চাকমা। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাধবী মারমা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ না করে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ব্যতীত গত ২১ এপ্রিল জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, যা আইনগতভাবে অবৈধ। সেজন্য আমি তার মনোনয়নপত্র বাতিল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বরাবর আবেদন করেছি। আশা করি, নির্বাচন কমিশন থেকে এ বিষয়ে গুরুতর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনিও সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী ছিলেন কি না জানতে চাইলে চন্দ্রা চাকমা বলেন, হ্যাঁ, আমিও একজন প্রার্থী ছিলাম। বিএনপি থেকে নমিনেশন কিনেছিলাম এবং নির্বাচন কমিশন অফিস থেকেও আমি কিনেছিলাম।
সরকার তো স্থানীয় সরকারগুলোকে বিলুপ্ত করেছিল, আপনাদের পার্বত্য জেলাগুলোতে কী বিলুপ্ত হয়নি জানতে চাইলে চন্দ্রা চাকমা বলেন, অন্যান্য জেলা পরিষদের আইন কিন্তু এক ধরনের আর তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের আইন কিন্তু এক ধরনের। জেলা পরিষদের আইনে কিন্তু লেখা আছে যে পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ইত্যাদি জনসেবক বলে গণ্য হবেন। এটা একটা বিষয়। আরেকটি বিষয় হচ্ছে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগ সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর যুক্ত চিঠিযোগে চেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষর যুক্ত চিঠিযোগে যে কোনো সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন। পদত্যাগ গৃহীত হওয়ার তারিখ থেকে পদত্যাগ কার্যকর হবে এবং পদত্যাগকারীর পদ শূন্য হবে। উনি কিন্তু পদত্যাগ করেননি। উনি ২১ তারিখে কিন্তু এখানে তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যার কারণে তিনি জেলা পরিষদের আইন যেমন লঙ্ঘন করেছেন, তেমনি নির্বাচন কমিশনের যে আইন আছে সেটাও কিন্তু তিনি লঙ্ঘন করেছেন।
তবে চন্দ্রা চাকমার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাধবী মারমা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার ইতোমধ্যে পদত্যাগ করা হয়ে গেছে এবং এটার কপি অনুমোদন হয়ে যেখানে যাওয়ার সেখানে চলেও গেছে। আমি ২০ এপ্রিল পদত্যাগ করেছি।
পদত্যাগের বিষয়টি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফরমেটে তো উল্লেখ নেই। ওখানে তো এই তথ্য দিতে বলতে হবে। সেটা তো নেই। এদিকে, গত ২০ এপ্রিল স্বাক্ষরিত মাধবী মারমার পদত্যাগপত্র রিসিভ করেছেন জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. আবুল মনসুর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পদত্যাগপত্রের ফাইলটি আজকে (২৬ এপ্রিল) আমার কাছে এসেছে।
এসএস/টিএ