লা লিগার নতুন নিয়ম বাতিলের দাবিতে আদালতে রিয়াল মাদ্রিদ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:০৫ পিএম | ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
রিয়াল মাদ্রিদের সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। টানা দুই মৌসুম শিরোপাহীন থাকার তিক্ত অভিজ্ঞতার সামনে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। এরমধ্যে ক্লাবটিকে ঘিরে এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। লা লিগার স্টেডিয়ামে বৈষম্য, হয়রানি এবং সহিংসতা মোকাবিলায় লিগটির সাম্প্রতিক প্রোটোকলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে ক্লাবটি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে লা লিগা কর্তৃক গৃহীত একটি কাঠামোর বিরোধিতা করছে রিয়াল। গত মার্চে পেশাদার ফুটবলের পরিবেশে যেকোনো ধরনের অসদাচরণ বা গালিগালাজ প্রতিরোধে লা লিগা তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল উন্মোচন করেছিল। কিন্তু রিয়াল এই ব্যবস্থা কার্যকর করার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
কেন এই বিরোধিতা? রিয়াল মাদ্রিদ কেন এই আইনি চ্যালেঞ্জ জানাল, সেটি বোঝার জন্য তাদের অভিযোগের ধরন জানা প্রয়োজন। ক্লাবটি এই প্রোটোকল অনুমোদনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যেখানে মূলত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লা লিগার কার্যনির্বাহী কমিটির নেওয়া একটি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রিয়ালের মূল উদ্দেশ্য হলো সেই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা।

এছাড়া, রিয়াল মাদ্রিদ চেয়েছিল অপরপক্ষের (লা লিগা) কথা না শুনেই আদালত যেন জরুরি ভিত্তিতে স্থগিতাদেশ দেয়। কিন্তু বিচারক সেই অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছেন। পরিবর্তে বিচারক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, কোনো রায় দেওয়ার আগে লা লিগাকে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেবেন।
প্রত্যাশিতভাবেই, রিয়াল মাদ্রিদের এই আইনি পদক্ষেপ স্প্যানিশ ফুটবলে বেশ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রিয়ালের এমন অবস্থানে অনেক ক্লাবই অবাক এবং বিরক্ত। বিশেষ করে বর্ণবাদ ও সহিংসতার মতো স্পর্শক্ষম বিষয়ে তাদের এমন বিরোধিতা কারো কাছেই বোধগম্য ঠেকছে না।
অন্যান্য ক্লাবগুলোর মতে, এই প্রোটোকলটি ছিল ফুটবলের পরিবেশ উন্নয়নের একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। ফলে রিয়ালের এই প্রতিবাদকে অনেকে দেখছেন লিগের ঐক্যে ফাটল হিসেবে।
এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবগুলোর মধ্যে এমন ধারণাও জোরালো হচ্ছে যে, এই সিদ্ধান্ত রিয়াল মাদ্রিদের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ণ করবে। বিশেষ করে যখন স্টেডিয়ামে দর্শকদের আচরণ এবং বৈষম্য দূর করার মতো বিষয়ে লিগের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা জরুরি, তখন এমন বিভক্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তবে রিয়াল মাদ্রিদের অবস্থান ভিন্ন। তারা দাবি করছে, তাদের এই লড়াই বর্ণবাদ বা বৈষম্য বিরোধী অবস্থানের বিরুদ্ধে নয়, বরং এটি একটি নীতিগত লড়াই। ক্লাবটির বক্তব্য হলো- এই প্রোটোকলটি ক্লাবগুলোর জন্য ‘ঐচ্ছিক’ হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু লা লিগা এটিকে একটি ‘বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে চাপিয়ে দিচ্ছে। তাদের মতে, লা লিগা এখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং ক্লাবগুলোর নিজস্ব ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও লিগের এই কাঠামো মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। অর্থাৎ, ক্লাব চাইলে এটা গ্রহণ করবে, না চাইলে করবে না এই স্বাধীনতা তারা চায়।
রিয়াল মাদ্রিদ আদালতে জানিয়েছে যে, তাদের নিজস্ব একটা বর্ণবাদ ও সহিংসতাবিরোধী প্রোটোকল আগে থেকেই আছে। তাদের দাবি, যেহেতু আমাদের নিজেদের শক্তিশালী ব্যবস্থা আছে, তাই লা লিগার নিয়ম আমাদের আলাদা করে মানার প্রয়োজন নেই। মূলত লা লিগা কতৃপক্ষের খবরদারি মানতে রাজি নয়।
এর পেছনে একটা বড় রাজনৈতিক কারণও আছে। রিয়াল মাদ্রিদ প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আর লা লিগা প্রধান হাভিয়ের তেবাসের সম্পর্ক অনেক দিন ধরেই খারাপ। রিয়াল মনে করছে, লা লিগা এই নতুন নিয়ম ব্যবহার করে ক্লাবগুলোর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বা ‘অথরিটি’ আরও বাড়াতে চাইছে। রিয়াল সেই নিয়ন্ত্রণের শিকলটা ভাঙতে চায়।
আপাতত এই সংকটের কোনো সহজ সমাধান দেখা যাচ্ছে না। যেহেতু বিচারক এখন লা লিগার আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক বক্তব্য শুনবেন, তাই এই আইনি লড়াই সামনে স্প্যানিশ ফুটবলের শাসনব্যবস্থা, কর্তৃত্ব এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
এসএস/টিএ