টেলিকম আয়ের ৫৬% কর-ভ্যাটে যায়, এমটবের ২৩ দফা দাবি
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৫৬ এএম | ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
মোবাইল অপারেটরদের আয়ের অর্ধেকের বেশি চলে যায় কর খাতে। তাই বোঝা কমাতে একগুচ্ছ দাবি করছে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের আসন্ন জাতীয় বাজেট উপলক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে ২৩ দফা দাবি পেশ করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) এনবিআর ভবনে আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এমটব ছাড়াও বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি) তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরে। এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার (অব.) বলেন, বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের মোট আয়ের প্রায় ৫৬ শতাংশই বিভিন্ন ভ্যাট ও কর হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ নিলামের বছরগুলোতে এই করের চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। বাংলাদেশে মোবাইল খাতে বিপুল বিনিয়োগের তুলনায় আয় ও মুনাফা সন্তোষজনক নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে গ্রাহকপ্রতি গড় আয় ১৫০ টাকার নিচে, যা প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি টিকে থাকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এমটব জানায়, বর্তমানে টেলিযোগাযোগ সেবায় ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক (এসডি) এবং ১ শতাংশ সারচার্জ রয়েছে। ডিজিটাল কানেক্টিভিটি বাড়াতে এই অতিরিক্ত শুল্ক ও সারচার্জ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে। সংগঠনটি সিম ও ই-সিম সরবরাহ এবং প্রতিস্থাপনের ওপর থাকা ৩০০ টাকা ভ্যাট প্রত্যাহার ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তরঙ্গ বরাদ্দের সময় ভ্যাট আরোপ এবং পরবর্তী সময়ে সেই তরঙ্গ ব্যবহার করে সেবা দেওয়ার সময় আবারও ভ্যাট দেওয়াকে ‘দ্বৈত কর’ হিসেবে অভিহিত করেছে সংগঠনটি। এই নীতির জরুরি অবসানের আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটরদের জন্য করপোরেট কর যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। অন্যদিকে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি) কাস্টমস ও ভ্যাট সুবিধার মেয়াদ ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বলবৎ রাখার প্রস্তাব করেছে। তারা বলছে, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের নিরাপত্তা এবং গ্রে মার্কেটের (অবৈধ বাজার) চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই সময়সীমা বাড়ানো জরুরি। এছাড়া ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শক্তিশালী করতে ডেটা ক্যাবল তৈরির উপকরণগুলোকেও (যেমন: কপার, পিভিসি, ইউএসবি কানেক্টর) রেয়াতি সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি। ব্যবসায়ী পর্যায়ে বর্তমান ৭.৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে শুধুমাত্র প্রকৃত মূল্য সংযোজনের ওপর ভ্যাট নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। এতে ভোক্তাদের জন্য মোবাইলের দাম আরও সাশ্রয়ী হবে বলে দাবি করছে সংগঠনটি।
এদিকে উৎপাদন খরচ কমাতে মোবাইল যন্ত্রাংশ আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে এমআইওবি। এছাড়া, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান স্থানীয়ভাবে ১০০ শতাংশ মাদারবোর্ড সংযোজন করে, তবে তাকে বিশেষ কর সুবিধা প্রদানের সুপারিশ করেছে তারা। সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে দেশের কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৩০-৪০ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে। নীতিমালার মেয়াদ না বাড়লে বিশাল বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং দেশ আবারও আমদানি নির্ভর হয়ে পড়তে পারে।
এবি/টিএ