ট্রফি কেনা যায়, কিন্তু নারীদের কেনা যায় না: প্রীতি জিনতা
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৫৩ এএম | ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
পাঞ্জাব কিংসকে ঘিরে উচ্ছ্বাসের মাঝেই সামাজিক মাধ্যমে এক তির্যক মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। সেই মন্তব্যে প্রীতি জিনতাকে ‘ট্রফি’ বলে উল্লেখ করা হলে কড়া জবাব দেন এই অভিনেত্রী। নারীর প্রতি এমন দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো নারীই কখনও ‘ট্রফি’ হতে চান না।
এক অনলাইন প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে প্রীতি বলেন, ট্রফি কেনা যায়, কিন্তু নারীদের কেনা যায় না। ট্রফি কাঁচের আলমারিতে সাজিয়ে রাখা হয়, কিন্তু একজন নারীর স্থান সেখানে নয়; বরং জীবনের ভেতরে, সম্মান ও ভালোবাসার জায়গায়। তার এই মন্তব্য দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে এবং সমর্থনও পায় অনেকের কাছ থেকে।

পাঞ্জাব কিংসের সাফল্য উদযাপনের মুহূর্তেই এমন মন্তব্য আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে প্রীতি বোঝান, নারীদের কোনো বস্তু হিসেবে দেখা বা তকমা দিয়ে চিহ্নিত করা শুধু অবমাননাকরই নয়, সমাজের জন্যও ক্ষতিকর। তার কথায়, সম্মান আর সমান মর্যাদার জায়গা থেকেই নারীদের মূল্যায়ন করা উচিত।
এরই মধ্যে নিজের কাজের প্রসঙ্গেও কথা বলেন এই অভিনেত্রী। ‘লাহোর ১৯৪৭’ ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জানান, ইতিহাসভিত্তিক গল্পে কাজ করার ইচ্ছা থেকেই এই ছবিতে যুক্ত হওয়া। ছবিটি বিভাজন আর ঘৃণার প্রেক্ষাপটে ভালোবাসার গল্প তুলে ধরবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই ছবিতে তার সঙ্গে কাজ করছেন রাজ কুমার সন্তোষী এবং সানি দেওল, যা তার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা।
অন্যদিকে ‘ভাইব’ নামের আরেকটি ছবির কথাও জানান তিনি। তুলনামূলক হালকা মেজাজের এই ছবিটি ‘লাহোর ১৯৪৭’-এর গম্ভীরতার পর ভিন্ন স্বাদ দেবে বলে আশা করছেন প্রীতি। দুটি ছবিই চলতি বছর মুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যক্তিজীবনেও তিনি বেশ সুখী সময় পার করছেন। ২০১৬ সালে জিন গুডএনাফ-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রীতি। বর্তমানে তারা যমজ সন্তানের মা-বাবা।
সব মিলিয়ে, এক তির্যক মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে নারীর মর্যাদা ও অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরলেন প্রীতি জিনতা। তার স্পষ্ট অবস্থান আবারও মনে করিয়ে দিল, বিনোদন জগতের আলোচনার বাইরেও সামাজিক বার্তা দেওয়ার দায়িত্বও শিল্পীদের কাঁধে থাকে।
পিআর/টিকে