© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে ফেলছেন ট্রাম্প, ক্ষতি সারাতে কয়েক বছর সময় লাগবে: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ

শেয়ার করুন:
বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে ফেলছেন ট্রাম্প, ক্ষতি সারাতে কয়েক বছর সময় লাগবে: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:০৪ পিএম | ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
স্টিগলিটজের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তত বাড়বে। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘদিন থাকবে। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল ইতোমধ্যে ব্যাহত হয়েছে এবং তেল-গ্যাস উৎপাদন স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।

বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি চলছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে 'বিপর্যয়কর' ভুল বলে কড়া সমালোচনা করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ ই. স্টিগলিটজ।

তার মতে, এর ফলে যুদ্ধাপরাধ, প্রাণহানি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ধ্বংস ডেকে আনা হয়েছে। স্টিগলিটজ বলেন, কোনো দেশের জন্য অন্য দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আর হয় না। অথচ যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যের ব্যবস্থা এবং যুক্তিনির্ভর পর্যালোচনাকে উপেক্ষা করে ঠিক সেটিই করেছে।

তিনি বলেন, এর ভয়াবহ ফল এখন স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র আবারও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণ গেছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।
একই সঙ্গে দেশটি একাধিক যুদ্ধাপরাধ করেছে বলেও তার দাবি।

স্টিগলিটজের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তত বাড়বে। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘদিন থাকবে। কারণ, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল ইতোমধ্যে ব্যাহত হয়েছে এবং তেল-গ্যাস উৎপাদন স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বেশির ভাগ হিসাব অনুযায়ী, এসব ক্ষতি সারাতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

তিনি বলেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতির পর এবার যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। বিশ্ব আগে থেকেই ক্রয়ক্ষমতা সংকটে ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ফলে এর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াবে।

স্টিগলিটজ বলেন, এর ফলে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময় বিশ্ব অর্থনীতির যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এতে জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট আরও তীব্র হবে এবং আবাসন ও ঋণ পরিস্থিতিও খারাপ হবে। একই সময়ে ধনকুবের ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রাম্পের করছাড় কার্যকর থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা কমে গেছে, ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সরকারের সুযোগও সীমিত হয়ে গেছে।

স্টিগলিটজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিট তেল রপ্তানিকারক হওয়ায় লাভবান হবে—ট্রাম্পের এ দাবি অর্থহীন। এক্সনের মতো কোম্পানি লাভবান হতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হবে। ফলে সাধারণ মার্কিন নাগরিককে বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে হবে, আর বড় তেল কোম্পানিগুলো বিপুল মুনাফা করবে। ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ খুব কম বলে মনে করেন স্টিগলিটজ।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পূর্বসূরিরা যে শান্তিপূর্ণ ও সীমান্তহীন বিশ্ব গড়তে চেয়েছিলেন, তার কফিনে আরও একটি পেরেক ঠুকে দেওয়া হয়েছে। যে দেশ এ ব্যবস্থার ভিত্তি গড়েছিল, ট্রাম্পের অধীনে এখন সেই দেশই তা ভেঙে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে মানুষের ভুল সিদ্ধান্ত এবং তার পরিণতি বড় সংকটে পরিণত হচ্ছে।

আইকে/টিএ

মন্তব্য করুন