পরিকল্পনা নয় ঘটনাচক্রেই ‘দিদি নম্বর ১’ থেকে রাজনীতিতে রচনা
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪৪ এএম | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
ভোরের আলো ফোটার আগেই কলটাইম। স্টুডিয়োর গেট পেরিয়ে ঢুকতেই যেন ছন্দ বদলে গেল দিনের। ছিমছাম পোশাকে, চোখে রোদচশমা- গাড়ি থেকে নেমেই মেকআপ রুমের দিকে দ্রুত পা বাড়ালেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ বিশেষ দিন। ‘দিদি নম্বর ১’-এর নবম সিজ়নের দেড় হাজারতম পর্বের শুটিং, তার ওপর তারকা বিশেষ আয়োজন। রঙিন শাড়ি আর সাজগোজে অল্প সময়েই তৈরি হয়ে সেটে পৌঁছে গেলেন তিনি। হাতে কড়া কালো কফি, মুখে পরিচিত হাসি-মুহূর্তেই যেন নিজের চেনা ছন্দে ফিরে এলেন ‘দিদি’।
শুটিং ফ্লোরে একঝাঁক তারকার ভিড়, তবু সবার আগে উপস্থিত হয়ে কাজের খুঁটিনাটি দেখে নেওয়াই তাঁর অভ্যাস। মাঝেমধ্যেই ফ্লোর ডিরেক্টরকে ডাক, সব প্রস্তুতি ঠিকঠাক চলছে কি না তা নিশ্চিত করা- এই নিয়েই ব্যস্ত রচনা। লাঞ্চ ব্রেক শেষ হওয়ার আগেই আবার ফ্লোরে ফিরে আসা, যেন বিরামহীন এক ছুটে চলা। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝেই ধরা পড়ল তাঁর অন্য এক মুখ—আবেগ আর অভিজ্ঞতায় ভরপুর এক দীর্ঘ পথচলার গল্প।
দেড় হাজার পর্বের মাইলফলকে দাঁড়িয়ে রচনা জানালেন, এই যাত্রা শুধু একটি অনুষ্ঠানের নয়, তাঁর নিজের জীবনকেও বদলে দিয়েছে। মানুষের নানা রঙের জীবন, তাদের সুখ-দুঃখের গল্প শুনতে শুনতেই তিনি নিজেকে নতুন করে চিনেছেন। কখনও চোখ ভিজেছে, কখনও আবার অট্টহাসিতে ভেসেছেন। তাঁর কথায়, এই মঞ্চ তাঁকে যে ভালবাসা দিয়েছে, তা জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু। একসময় শুধুই অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত থাকলেও, আজ তিনি সবার ‘দিদি’। ছোট থেকে বড়, সব বয়সের মানুষের মুখে একই ডাক—এই পরিচয়ই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন। এমনকি নিজের নামও অনেক সময় ভুলে যান তিনি, ‘দিদি’ সম্বোধনেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন।

তবে এই দীর্ঘ পথচলায় একঘেয়েমিও এসেছে কখনও সখনও। কিন্তু সেটে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই যেন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। প্রতিযোগীদের মুখ, তাদের গল্প—সব মিলিয়ে নতুন করে শক্তি পান তিনি। কাজের এই টানই তাঁকে এত বছর ধরে একই উদ্যমে বেঁধে রেখেছে।
ব্যক্তিগত জীবনেও কম ব্যস্ততা নয়। বড় হয়ে ওঠা ছেলে এখন মুম্বইয়ে পড়াশোনা করছে, নিজের মতো করে জীবন গুছিয়ে নিচ্ছে। দূরত্ব থাকলেও, এই যাত্রার সঙ্গী ছিল সেই ছোটবেলা থেকেই। পাশাপাশি রয়েছে ব্যবসা, শুটিং আর রাজনৈতিক প্রচারের দায়িত্ব। সব মিলিয়ে সময় সামলানো সহজ নয়, তবু পরিশ্রমকেই ভরসা করে এগিয়ে চলেছেন তিনি।
নতুন প্রজন্ম নিয়েও তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। তাঁদের স্মার্টনেস ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে রচনা বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বদল এসেছে, নতুন প্রজন্ম নিজেদের মতো করে জীবনকে দেখতে শিখেছে- এটাকেই তিনি স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবে মেনে নেন।
রাজনীতির প্রসঙ্গ উঠতেই তাঁর সুর আরও স্পষ্ট। সহকর্মীরা ভিন্ন মতাদর্শে থাকলেও, কাউকে ছোট করা বা কুৎসা রটানো তাঁর স্বভাব নয়। নিজের কাজটাই করে যেতে চান তিনি, ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই।
সবশেষে ফিরে আসা সেই প্রিয় মঞ্চে-‘দিদি নম্বর ১’। রচনার কাছে এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাজের ভিড়ে সিনেমা করার সুযোগ কমে গেলেও, ভাল চরিত্র এলে ফিরতে চান পর্দায়। তবে আপাতত তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার ‘দিদি নম্বর ১’- তারপরই পরিবার। এই সমীকরণেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন নিজের জীবনের সহজ ছন্দ।
এসএ/এসএন