বালু খেকোদের কবলে চিলমারী: তাসের ঘরের মতো ভাঙছে জনপদ
ছবি: সংগৃহীত
০৫:২৭ পিএম | ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে নদী রক্ষা বাঁধের কোল ঘেঁষে দিন-রাত ড্রেজার চালিয়ে বালু তোলায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে চিলমারীর বিস্তীর্ণ এলাকা। জেলার চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। অভিযোগ উঠেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত নদী তীর রক্ষাকারী বাঁধের একেবারে পাশ থেকেই বালু তোলা হচ্ছে। এতে বাঁধটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে শুধু বসতবাড়ি নয়, বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়।
রাক্ষুসে ব্রহ্মপুত্রের থাবায় একদিকে যখন ভিটেমাটি হারানোর ভয়, অন্যদিকে ‘বালু খেকো’দের দৌরাত্ম্যে সেই আতঙ্ক এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যত্রতত্র ড্রেজার বসিয়ে ভূগর্ভস্থ বালু তোলায় যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ভূমিধস ও বাঁধ ধসে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে শত শত পরিবার।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ড্রেজার দিয়ে রাত-দিন বালু তোলায় নদীর গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে, যা ভাঙন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুকুল মন্ডল বলেন, “প্রতিদিনই নদীভাঙন বাড়ছে। আমরা সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি, কখন ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায় তার ঠিক নেই। এছাড়া বালু বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামের রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।”
আরেক ভুক্তভোগী নুর ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “প্রশাসনকে জানানো হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।” ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহারীকা শারমিন দিপী বলেন, “দ্রুত এই অবৈধ বালু তোলা বন্ধ না করলে পুরো এলাকা মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।”
স্থানীয়রা বারবার মানববন্ধন এবং লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।এলাকাবাসীর দাবি- অবিলম্বে এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে নদী রক্ষা বাঁধটি সংস্কার করা হোক এবং এই ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যথায় অচিরেই চিলমারীর একটি বড় অংশ নদীগর্ভে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমআর/টিএ